Tuesday, 22 July 2014

মেয়েদের অপছন্দের পুরুষ




মেয়েদের অপছন্দের পুরুষ


পুরুষদের কিছু আচরণ ও বৈশিষ্ট্য মেয়েরা কখনোই পছন্দ করে না। এমন কি, যারা নিজেদের স্মার্ট ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ভাবে, মেয়েরা তাদেরও এড়িয়ে চলে। এনিয়ে অতীতেও যেমন গবেষণা কম হয়নি, এখনও থেমে নেই। সম্প্রতি উপমহাদেশীয় এক ই-মেইল জরিপে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, ইরান ও আফগান মহিলারা তাদের অপছন্দের পুরুষ সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন।

মোট ৬ হাজার ৪শ ৩৮টি ই-মেইলকে যথাযথ বিবেচনা করে প্রণয়ন করা রিপোর্টে দেখা গেছে, ধূমপায়ী ও মদ্যপানকারী পুরুষদের বিপক্ষে শতকরা ৯৬ দশমিক ৫ ভাগ মেয়ে। যদিও মদ্যপায়ীদের জন্য সুখবর হচ্ছে, পয়ত্রিশোর্ধ্ব মহিলারা একটু-আধটু মদ্যপ পুরুষকে প্রশ্রয় দিতে আগ্রহী। আর এ প্রশ্রয় স্বামীদের প্রতি একেবারেই নয়; পুরুষ বন্ধুরা একটু আধটু মদ খেয়ে বেসামাল হতে চাইলে আপত্তিকর ভাবেন না এ দলের মহিলারা।

"সোশাল, ইকোনমিকাল এন্ড কালচারাল বিহ্যাবিয়ার অব সাউথ-এশিয়া" শীর্ষক এক গবেষনার অংশ হিসেবে এই চিত্র উঠে এসেছে "কনফ্লিক্ট অব হিউম্যান সাইকোলজী"র পর্যবেক্ষণে। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক আজিজুর রহিম।

উপমহাদেশের নারী চরিত্র বিশ্লেষণের উপজীব্য হিসেবে গবেষণার এই অংশটিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। নারীরা যে ধরনের পুরুষকে এড়িয়ে চলেন তার হিসেব-নিকেশে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এবং ভারতীয়দের মধ্যে যথেষ্ট সাযুজ্য রয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরানের মধ্যে- আগে যেমনটি ভাবা হয়েছিল, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর গবেষক দলের ধারণাই পাল্টে গেছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নারীদের তুলনায়ও ইরানীরা অনেক বেশি 'বোল্ড' এবং সোজাসাপ্টা মনোভাব প্রকাশ করেন। রক্ষণশীলতার মাপকাঠিতে আফগান এবং পাকিস্তানিদের তুলনায় ইরানী নারীরা অনেক বেশি অগ্রসর। কোন কোন ক্ষেত্রে ভারতীয়দের চেয়েও বেশি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে শ্রীলংকার মেয়েরা।

নারীদের অপছন্দের পুরুষ হিসেবে গবেষণা নিবন্ধে তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে সেই সব পুরুষ, যারা যেকোনো সমস্যায় নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে মায়ের পরামর্শে চলে।
দ্বিতীয় অবস্থানে, যারা সবকিছুতেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় সেইসব পুরুষ।

আরও আছে:-
যেসব পুরুষের আচরণে পূর্ণতার প্রকাশ নেই।
যেসব পুরুষের কথাবার্তায় মেয়েলিপনার প্রকাশ ঘটে।
যারা মেয়েদের সংগে কথা বলার সময় চোখের দিকে না তাকিয়ে চোরা চাউনিতে অন্যকিছু খুঁজতে থাকে।
যারা কখনোই মুখ ফুটে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না।
যারা শোনার চেয়ে বলে বেশি।
যারা অন্য পুরুষের সমালোচনা করে নিজের সঙ্গে পার্থক্য রচনা করতে কসরত করে বেশি।
যারা মেয়েদের পোশাকে বৈচিত্র্য পছন্দ করে না বা গতানুগতিক পোশাকে মেয়েদের দেখতে চায়।
নিজের বান্ধবী বা প্রেমিকাকে নিয়ে যে পুরুষ গর্ববোধ করে না।
বান্ধবী বা প্রেমিকার কাছে শিক্ষার বড়াই করে যেসব পুরুষ।
যেসব পুরুষ আচরণ বা কথাবার্তায় বান্ধবী বা প্রেমিকার প্রকৃত অবস্থান মূল্যায়ন করতে পারে না।
নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার প্রবণতা রয়েছে যেসব পুরুষের।
বান্ধবী বা প্রেমিকা্র সামনে অন্য কোন নারীর গুণকীর্তণে যে পুরুষ উৎফুল্ল হয়।
যারা অর্থ ব্যয় করে অন্যের ওপর প্রভাব খাটাতে চায়।
যারা মেয়েদের সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলতে (শেয়ার করতে) আগ্রহী নয়।
মেয়েদের সঙ্গে আড্ডায় যারা রাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য, ব্যবসা ও খেলাধুলা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখায় না।

বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত ই-মেইল পর্যবেক্ষণে যা বেরিয়ে এসেছে, তার সারকথা হচ্ছে, উপমহাদেশের সবচেয়ে মুখচোরা এদেশের মেয়েরা। এমনকি, নিজের পছন্দ তো প্রকাশ করেই না, অপছন্দটা বলতেও কিছু একটা হারিয়ে ফেলবে, এমন একটা সতর্ক জবাব দেয়। অথচ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এদের অনেকেই সব কিছুর মধ্যে প্রচ্ছন্ন যৌনতার গন্ধ প্রাপ্তির ইঙ্গিত করতেও দ্বিধা করেননি। আর এজন্য তাদের দায়ী না করে গবেষণা নিবন্ধে মানসিকতার উৎকর্ষতায় শিক্ষা ও শিক্ষাপদ্ধতির দুর্বলতাকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
Photo: মেয়েদের অপছন্দের পুরুষ

পুরুষদের কিছু আচরণ ও বৈশিষ্ট্য মেয়েরা কখনোই পছন্দ করে না। এমন কি, যারা নিজেদের স্মার্ট ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ভাবে, মেয়েরা তাদেরও এড়িয়ে চলে। এনিয়ে অতীতেও যেমন গবেষণা কম হয়নি, এখনও থেমে নেই। সম্প্রতি উপমহাদেশীয় এক ই-মেইল জরিপে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, ইরান ও আফগান মহিলারা তাদের অপছন্দের পুরুষ সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন।

মোট ৬ হাজার ৪শ ৩৮টি ই-মেইলকে যথাযথ বিবেচনা করে প্রণয়ন করা রিপোর্টে দেখা গেছে, ধূমপায়ী ও মদ্যপানকারী পুরুষদের বিপক্ষে শতকরা ৯৬ দশমিক ৫ ভাগ মেয়ে। যদিও মদ্যপায়ীদের জন্য সুখবর হচ্ছে, পয়ত্রিশোর্ধ্ব মহিলারা একটু-আধটু মদ্যপ পুরুষকে প্রশ্রয় দিতে আগ্রহী। আর এ প্রশ্রয় স্বামীদের প্রতি একেবারেই নয়; পুরুষ বন্ধুরা একটু আধটু মদ খেয়ে বেসামাল হতে চাইলে আপত্তিকর ভাবেন না এ দলের মহিলারা।

"সোশাল, ইকোনমিকাল এন্ড কালচারাল বিহ্যাবিয়ার অব সাউথ-এশিয়া" শীর্ষক এক গবেষনার অংশ হিসেবে এই চিত্র উঠে এসেছে "কনফ্লিক্ট অব হিউম্যান সাইকোলজী"র পর্যবেক্ষণে। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক আজিজুর রহিম।

উপমহাদেশের নারী চরিত্র বিশ্লেষণের উপজীব্য হিসেবে গবেষণার এই অংশটিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। নারীরা যে ধরনের পুরুষকে এড়িয়ে চলেন তার হিসেব-নিকেশে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এবং ভারতীয়দের মধ্যে যথেষ্ট সাযুজ্য রয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরানের মধ্যে- আগে যেমনটি ভাবা হয়েছিল, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর গবেষক দলের ধারণাই পাল্টে গেছে। বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নারীদের তুলনায়ও ইরানীরা অনেক বেশি 'বোল্ড' এবং সোজাসাপ্টা মনোভাব প্রকাশ করেন। রক্ষণশীলতার মাপকাঠিতে আফগান এবং পাকিস্তানিদের তুলনায় ইরানী নারীরা অনেক বেশি অগ্রসর। কোন কোন ক্ষেত্রে ভারতীয়দের চেয়েও বেশি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে শ্রীলংকার মেয়েরা।

নারীদের অপছন্দের পুরুষ হিসেবে গবেষণা নিবন্ধে তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে সেই সব পুরুষ, যারা যেকোনো সমস্যায় নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে মায়ের পরামর্শে চলে।
দ্বিতীয় অবস্থানে, যারা সবকিছুতেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয় সেইসব পুরুষ।

আরও আছে:-
যেসব পুরুষের আচরণে পূর্ণতার প্রকাশ নেই।
যেসব পুরুষের কথাবার্তায় মেয়েলিপনার প্রকাশ ঘটে।
যারা মেয়েদের সংগে কথা বলার সময় চোখের দিকে না তাকিয়ে চোরা চাউনিতে অন্যকিছু খুঁজতে থাকে।
যারা কখনোই মুখ ফুটে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না।
যারা শোনার চেয়ে বলে বেশি।
যারা অন্য পুরুষের সমালোচনা করে নিজের সঙ্গে পার্থক্য রচনা করতে কসরত করে বেশি।
যারা মেয়েদের পোশাকে বৈচিত্র্য পছন্দ করে না বা গতানুগতিক পোশাকে মেয়েদের দেখতে চায়।
নিজের বান্ধবী বা প্রেমিকাকে নিয়ে যে পুরুষ গর্ববোধ করে না।
বান্ধবী বা প্রেমিকার কাছে শিক্ষার বড়াই করে যেসব পুরুষ।
যেসব পুরুষ আচরণ বা কথাবার্তায় বান্ধবী বা প্রেমিকার প্রকৃত অবস্থান মূল্যায়ন করতে পারে না।
নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার প্রবণতা রয়েছে যেসব পুরুষের।
বান্ধবী বা প্রেমিকা্র সামনে অন্য কোন নারীর গুণকীর্তণে যে পুরুষ উৎফুল্ল হয়।
যারা অর্থ ব্যয় করে অন্যের ওপর প্রভাব খাটাতে চায়।
যারা মেয়েদের সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলতে (শেয়ার করতে) আগ্রহী নয়।
মেয়েদের সঙ্গে আড্ডায় যারা রাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য, ব্যবসা ও খেলাধুলা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ দেখায় না।

বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত ই-মেইল পর্যবেক্ষণে যা বেরিয়ে এসেছে, তার সারকথা হচ্ছে, উপমহাদেশের সবচেয়ে মুখচোরা এদেশের মেয়েরা। এমনকি, নিজের পছন্দ তো প্রকাশ করেই না, অপছন্দটা বলতেও কিছু একটা হারিয়ে ফেলবে, এমন একটা সতর্ক জবাব দেয়। অথচ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এদের অনেকেই সব কিছুর মধ্যে প্রচ্ছন্ন যৌনতার গন্ধ প্রাপ্তির ইঙ্গিত করতেও দ্বিধা করেননি। আর এজন্য তাদের দায়ী না করে গবেষণা নিবন্ধে মানসিকতার উৎকর্ষতায় শিক্ষা ও শিক্ষাপদ্ধতির দুর্বলতাকেই চিহ্নিত করা হয়েছে।

0 Comments:

Post a Comment

Subscribe to Post Comments [Atom]

<< Home