Friday, 25 July 2014

সৌন্দর্য চর্চায় বিপাকও আছে----


সৌন্দর্য চর্চায় বিপাকও আছে!




আজকের দিনে রূপচর্চাটা জীবনেরই অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দর হয়ে উঠবার দৌঁড়ে পিছিয়ে থাকতে চাচ্ছেন না কেউই। এজন্য প্রতিদিনই পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুব গুছিয়ে রাখতে ব্যস্ত সবাই । প্রয়োজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিউটি পার্লারে সময় কাটাতেও দ্বিধা নেই। বিষয়টিকে মাথায় রেখে অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিউটি পার্লার। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন নিজেকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে ক্ষতিকর কিছু করে ফেলছেন না তো!
beauty-parlor
বিউটি পার্লারে চলছে রূপ চর্চা
আপনার সৌন্দর্য চর্চা অব্যহত থাকুক তবে একইসাথে কিছু বিষয় মেনে চলুন। বিউটি পার্লারে কি কি বিষয়ে নজর রাখবেন তা জানাচ্ছে অর্থসূচক-
বিউটি পার্লারে যে প্রোডাক্টসমূহ ব্যবহৃত হয় সেগুলি ঠিক কিনা। সেখানে সঠিক উপায়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা হয় কিনা তা খেয়াল করুন।
শরীরের অতিরিক্ত লোম থেকে মুক্তি ও সুন্দর ত্বকের জন্য ওয়াক্সিং সঠিক কিন্তুএর প্রতি আপনার অবহেলা ত্বক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। কারণ ওয়াক্সিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ওয়াক্সের মানের দিকে সাধারণত আপনার নজর থাকে না। ওয়াক্সিংয়ের সময় কাপড়ের স্ট্রিপ্স একেবারেই নয়ব্যবহার করা উচিৎ ডিসপোজাল স্ট্রিপ্স। অনেক সময় একসঙ্গে অনেক কাস্টমারের ওয়াক্সিং করা হয় এবং একই ওয়াক্স স্ট্রিপ্সের ব্যবহার করা হয়, এটি সরাসরি সংক্রমণের কারণ। তাই ওয়াক্সিংয়ের সময় খেয়াল রাখবেন যাতে নতুন ওয়াক্স ও স্ট্রিপ্স ব্যবহার করা হয়। ওয়াক্স করা সময় যে টুল ব্যবহার করা হয় তাও যেন স্টেরিলাইজড হয়। অন্য কারও ত্বকে ব্যবহৃত ওয়াক্স বা টুল ব্যবহারের ফলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
টিনএজদের ফেসিয়াল করা উচিত না। এতে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পরে। ত্বক কালচে হতে পারে। ব্রণ ও র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। ত্বক হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ। ফেসিয়ালে সাধারণত মার্কস,প্যাক ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বাবহৃত হয়। যেগুলো টিনএজ  ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
চুলে কালার করার ফ্যাশন এখন তুঙ্গে। মেয়েরা হেয়ার স্ট্রিপ্স কালারিং বা হেয়ার ব্লিচ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। কিন্তু কালারিং বা ব্লিচ গোটা চুলেই হোক বা সামান্য কিছু অংশে ক্ষতি পরিমাণ একই থাকে। হেয়ার ডাই,কালার বা ব্লিচে বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল থাকে। যেমন-পিপিডি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যামোনিয়া, সালফেট, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সবই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে শ্বাসকষ্ট ও ত্বকের সমস্যা হতে পারে।
বারবার বা কম সময়ের ব্যবধানে চুলে ট্রিটমেন্ট করলে চুলের আগা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়।
হেয়ার স্ট্রেটনিং এখন খুবই সাধারণ বিষয়। তাই চুল স্ট্রেট করার জন্য বাজারে প্রচুর স্ট্রেটনিং আয়রন পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধরণের হেয়ার ট্রিটমেন্ট চুলের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। বাড়িতে হোক বা পার্লারে চুল স্ট্রেট করার জন্য কেমিক্যাল, স্ট্রেটনার ও ড্রায়ার ব্যবহার করা হয়। এগুলো সবই চুলের আদ্রতা কমিয়ে চুলকে রুক্ষ করে দেয়। এতে চুল দুর্বল হয়ে খুব সহজেই পড়ে যায়।
হাত-পা সুন্দর রাখার জন্য পেডিকিওর-ম্যানিকিওরে আগ্রহ্টাও বেশ। কিন্তু এই ধরনের ট্রিটমেন্টের জন্য সবচেয়ে বেশি বিউটি টুলসের প্রয়োজন পড়ে। এই টুলস থেকেই হাজারও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এই সরঞ্জামগুলি সবই আপনার ত্বকের সংস্পর্শে আসে। তাই এগুলোযদি স্টেরেলাইজ না থাকে তবে এগুলো থেকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে। পেডিকিওর করার সময় গরম পানি ও সাবান ব্যবহার করা হয়, এতে হাজারও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না নিজেকে সুন্দর দেখাতে গিয়ে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা ভোগ করতে। তাই সৌন্দর্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন। যেকোন বিউটি ট্রিটমেন্টের আগে সেগুলির পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন সঙ্গে খেয়াল রাখুন পরিচ্ছন্নতার দিকটিও।

Thursday, 24 July 2014

সতীত্ব প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা

সতীত্ব প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা



গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে গরম লোহার রড চেপে ধরে সতীত্বের প্রমাণ দিতে হবে গৃহবধূকে। এই অগ্নীপরীক্ষায় টিকে থাকতে পারলেই কেবল স্বামীর সাথে ঘর করতে পারবেন তিনি। এমন অমানবিক কাজ করতে জোর করা হয়েছে তাকে, ভারতের আদালতে অভিযোগ করলেন ২৫ বছরের এক গৃহবধূ পুণম।
বুধবার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৪৯৮ এ ধারায়  মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত।
পুনমের আইনজীবী সন্তোষ খোয়ারে জানান, স্থানীয় কঞ্জর সম্প্রদায়ের মেয়ে পুনমের সাথে কুণালের ২০০৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুনমের কাছে ২ লক্ষ টাকা পণ চেয়ে তাঁর ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা পুনমের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।
বুধবার অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়ায়। এলাকার পঞ্চায়েতের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে বলেন শাশুড়ি। পুনম তা মেনে না নিয়ে আদালতের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।
সূত্র: ইন্টারনেট

Tuesday, 22 July 2014

পেটে চর্বি জমা

Photo: পেটে চর্বি জমা 

পেটে চর্বি জমা সব বয়সের নারীদের জন্যই একটি প্রধান সমস্যা। আসুন জেনে নেয়া যাক এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়।
১. এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু ও একটু লবণ দিয়ে শরবত তৈরি করে প্রতিদিন সকালে খাবেন।
২.সকালে দুই বা তিন কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে। লেবুর শরবত পান করার পরই এটি খেয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ পদ্ধতিটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি দ্বিগুণ গতিতে করবে। একই সঙ্গে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন হবে মসৃণ গতিতে।
৩. সকালের নাশতায় অন্য খাবারের পরিমাণটা কমিয়ে সেখানে স্থান করে দিতে হবে ফলের। প্রতিদিন সকালে এক বাটি ফল খেলে পেটে চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যাবে।
৪. পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে হলে পানির সঙ্গে করতে হবে বন্ধুত্ব। কেননা পানি আপনার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর সব কিছু বের করে দিতে সাহায্য করে।
৫. সাদা চালের ভাত থেকে দূরে থাকুন। এর পরিবর্তে আটার তৈরি খাবার খেতে হবে।
৬. দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করুন আপনার খাবার। এগুলো শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
৭. চিনিজাতীয় খাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পেট ও ঊরুতে। পেটের চর্বি থেকে রেহাই পেতে হলে চিনি এবং চিনিজাতীয় খাবারের সঙ্গে শত্রুতা ছাড়া উপায় নেই।

পেটে চর্বি জমা


পেটে চর্বি জমা সব বয়সের নারীদের জন্যই একটি প্রধান সমস্যা। আসুন জেনে নেয়া যাক এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়।
১. এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু ও একটু লবণ দিয়ে শরবত তৈরি করে প্রতিদিন সকালে খাবেন।
২.সকালে দুই বা তিন কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে। লেবুর শরবত পান করার পরই এটি খেয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ পদ্ধতিটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি দ্বিগুণ গতিতে করবে। একই সঙ্গে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন হবে মসৃণ গতিতে।
৩. সকালের নাশতায় অন্য খাবারের পরিমাণটা কমিয়ে সেখানে স্থান করে দিতে হবে ফলের। প্রতিদিন সকালে এক বাটি ফল খেলে পেটে চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যাবে।
৪. পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে হলে পানির সঙ্গে করতে হবে বন্ধুত্ব। কেননা পানি আপনার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর সব কিছু বের করে দিতে সাহায্য করে।
৫. সাদা চালের ভাত থেকে দূরে থাকুন। এর পরিবর্তে আটার তৈরি খাবার খেতে হবে।
৬. দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করুন আপনার খাবার। এগুলো শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
৭. চিনিজাতীয় খাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পেট ও ঊরুতে। পেটের চর্বি থেকে রেহাই পেতে হলে চিনি এবং চিনিজাতীয় খাবারের সঙ্গে শত্রুতা ছাড়া উপায় নেই।

মুখের রঙ ফর্সা করুন

মুখের রঙ ফর্সা করুন

 

* আলুর চোকলা ছাড়িয়ে আলুটা ভাল করে কিষে নিন৷ এই কেষা আলুটা মুখে লাগান৷ এতে আপনার মুখের কালো ছাপটা দূর হয়ে যাবে৷ ত্বকও নমনীয় হবে৷

* মালাই আর গোলাপ জল মিশিয়ে হালকা ম্যাসেজের মধ্যে দিয়ে মুখে লাগান৷ এটা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে৷

* দুধ আর মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে ঘাড়,হাত এবং পায়ে মালিশ করুন৷ এতে ত্বক নমনীয় হবে৷

* পেঁপে ভাল করে চটকে এর মধ্যে মধু আর দুধ মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরী করুন৷ এই প্যাকটা মুখে ও হাতে লাগিয়ে কিছুক্ষন রাখার পর ধুয়ে ফেলুন৷ এতে ত্বকের সব নোংরা দূর হয়ে যাবে৷






 বেসন আর হলুদ লাগান
বেসন আর হলুদ লাগান
বেসনের সঙ্গে হলুদ ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান ৷ত্বক উজ্জ্বল হবে৷
গোলাপ জল চাকচিক্য বাড়ায়
মুখে প্রতিদিন গোলাপ জল লাগান৷ ত্বকের গ্ল্যামার বাড়বে৷
ত্বক মোলায়েম করে পুদিনা
পুদিনা বেটে মুখে লাগানোর পরে 20-25 মিনিট রাখার পরে ধুয়ে ফেলুন৷ ত্বক মোলায়েম হবে৷
মেথি ডেনড্রাফ দূর করে
100 গ্রাম মেথিদানা জলের মধ্যে মিশিয়ে তা পিষে মাথায় লাগান খুসকী কমে যাবে৷
গাজরে খুসকী নাশ
গাজরের রস মাথায় লাগান খুসকী কমে যাবে৷


 ব্রোনো দূর করার টিপস
ত্বকের উজ্জ্বাল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রোনো৷ ব্রোনো থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করুন৷

* বেশী পরিমাণে নিরামিষ খাবার৷ আমিষ খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়ার চেষ্টা করুন৷

* ডেয়ারী প্রোডাক্টসের মধ্যে হরমোনাল কন্টেন্ট বেশী পরিমাণে রয়েছে যা খুব সহজে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়৷ এই কারণেই পনীর, দুধ এবং দই কম খান৷

* কোল ডিঙ্ক্রস খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন৷

* আচার খাবেন না৷ তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন৷

* খুব বেশী পরিমাণে জল খান৷ দিনে যদি দু লিটার জল খেতে পারেন তা আপনার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হবে৷ জল বেশী খাওয়ার ফলে শরীর থেকে পিত্ত বেরিয়ে যাবে৷ আপনি ব্রোনোর সমস্যা থেকে পরিত্রান পাবেন৷

* আয়ুর্বেদের মতে অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে শরীরে পিত্ত সঞ্চিত হয়৷ তাই ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন৷




 চোখের নীচের কালো ছাপ মেটান
গরমের দিনে রাতে শোওয়ার আগে চোখে গোলাপ জল দিতে কখনও ভুলবেন না৷ এছাড়া শশা, কাচা দুধের ক্রিমটাও চোখের জন্য উপকারী৷ এগুলো চোখে দিলে কখনও চোখ জ্বালা অনুভব করবেন না৷ চোখের নীচের কালো ছাপও মিটে যাবে৷




 সহজ উপায়ে ব্রন কমান
অনেকে প্রকৃত সুন্দরী হলেও ব্রনর সমস্যার জন্যে তাদের রূপ প্রকাশিত হতে পারেনা৷ ব্রন সমস্যাকে খুব সহজ ঘরোয়া উপায়ে মেটানো সম্ভব৷ এর জন্যে পরিস্কার আটার সাথে কিছুটা পরিমান মধু, পাতিলেবুর রস এবং বাদাম বাটা মিশিয়ে নিন৷ এবার এই মিশ্রনটিকে প্রতিদিন মুখের প্রলেপের মতন করে লাগাতে থাকুন৷ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই নিয়ম মেনে চললে আপনার ব্রন সমস্যা একেবারে কমে যাবে৷




মেকআপে কিছু সচেতনতা

মেকআপে কিছু সচেতনতা


আমরা প্রায়ই মেকআপ করাকে একটি হালকা কাজ বলে মনে করি। অনেকেই মেকআপ করাটাকে কোনোরকম ঘষামাজার আওতায় ফেলে দেন। কিন্তু এর জন্য চাই কিছু সচেতনতা, কেননা সবার ত্বকের গড়ন এবং গায়ের রং যে একেই রকম হবে তেমনটি কিন্তু না। যেমন যাদের গায়ের রং ফর্সা তাদের অবশ্যই হালকা মেকআপ করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহারে ফর্সা ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতাকে নষ্ট করে দেয়। তা ছাড়া দিনের বেলায় ফর্সা ত্বকে ক্রিমবেইস মেকআপ করা যেতে পারে। তবে রাতের পার্টিতে একটু গাঢ় রঙের মেকআপ ব্যবহার করলে দেখতে ভালো লাগবে। গায়ের রং যাদের শ্যামলা তারা চাইলে সব ধরনের মেকআপ ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি যাদের গায়ের রং কালো তারা দিনে অথবা রাতে যেকোনো সময় গাঢ় রঙের মেকআপ মুখে লাগাতে পারেন। কারণ গাঢ় রঙের মেকআপ চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। তা ছাড়া ত্বকের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে ভালো মানের ফেস পাউডার বা ফেস মেকআপ ব্যবহার করা উচিত। ফর্সা ত্বকে উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো অনেক বেশি মানানসই। এ ক্ষেত্রে গোলাপি, হালকা আকাশি রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় যেকোনো পার্টি সাজে উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করাই উত্তম। তবে রাতের পার্টিতে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। বেগুনি, ব্ল্যাক, নীল, হ্যাজেল, গ্রিন, কোরাল বা যেকোনো গাঢ় রঙের আইশ্যাডো রাতের পার্টিতে অনেক বেশি মানানসই। শ্যামলা ত্বকে উজ্জ্বল বা গাঢ় যেকোনো রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ শ্যামলা ত্বকে যেকোনো রঙের আইশ্যাডো সহজেই মানিয়ে যায়। যাদের গায়ের রং কালো তারা দিনের অথবা রাতের পার্টির সাজে অবশ্যই ব্রাউন, ভায়োলেট, কোরাল, সফট পিটের মতো ব্রাইট কিন্তু কুল শেড—এ ধরনের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

দিনের মেকআপ

* হালকা রঙের ফাউন্ডেশন বা ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার গালের উপরের অংশকে হাইলাইট করতে ব্যবহার করুন। হালকা গোলাপি রং ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। আর তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

* চুলে খুব বেশি সাজের দরকার নেই। সাধারণত যেভাবে আঁচড়িয়ে রাখেন, সেভাবেই রাখুন।

* লম্বা চুলের অর্ধেকটা কোঁকড়ানো করুন এবং চুল খোলা রাখুন। দেখতে ভালো লাগবে।

* হালকা রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। মোহনীয় দেখানোর জন্য।

* ঠোঁটে ও গালে হালকা গোলাপি রঙের ব্লাশঅন বেছে নিন।

* সোনালি রঙের আইশ্যাডো চোখের পাতার ওপরের অংশে লাগান। খুব ভালো করে মিলিয়ে নিন। চিরাচরিত আইলাইনারের বদলে সিলভার ক্রেয়ান দিয়ে আউটলাইন করুন।

* লম্বা চুল খোলা রাখলে ভালো লাগবে দেখতে। আবার সামনের দিকের চুলগুলো সামান্য কোঁকড়ানো করতে পারেন। কিছুটা কপাল ঢাকা থাকবে।

* চোখের উপরে সোনালি ও রুপালি আইশ্যাডো দিলে আর অন্য কোনো রঙের আইশ্যাডো দেওয়ার দরকার নেই। শুধুমাত্র মাসকারা ব্যবহার করুন।

ঠোঁটে গ্লস ব্যবহার করুন

* চুলের এক রকম কাটের বদলে, বেছে নিতে পারেন বাউন্সি কার্লস।

* উজ্জ্বল রঙের নেল কালার ব্যবহার করতে পারেন। দেখতে খুব ভালো লাগবে।

* টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যদি আপনি ত্বকে গমরঙা গ্লো চান।

* চোখে বাদামি রঙের কাজল দিয়ে এঁকে দিন।

* বাদামি রঙের নেলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন।

* ঠোঁটের মেকআপের জন্য, হালকা গোলাপি, হালকা বাদামি রঙের লিপস্টিক বেছে নিন।

রাতের মেকআপ

* রাতের মেকআপের ক্ষেত্রে স্মোকি আইজ সবচেয়ে ভালো মানায়। আইশ্যাডো দেওয়ার পর, কালো রঙের গাঢ় করে আইলাইনার উপরে লাগান। আর নিচে কালো রঙের কাজল পরুন। ইচ্ছা করলে গ্লিটার দেওয়া আইশ্যাডো বেছে নিতে পারেন। ব্রাশ দিয়ে চোখের কোণের আইশ্যাডো ভালো করে মিলিয়ে দিন। এরপর ভ্রুয়ের নিচের অংশে হাইলাইটার লাগিয়ে দিন।

* চুল সামান্য কোঁকড়ানো করে নিন। প্রাকৃতিকভাবেই যদি চুল কোঁকড়ানো হয়ে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। চুলগুলোকে একটু উঁচু করে তুলে খোঁপার মতো বেঁধে নিন। আবার খুব টেনে বাঁধবেন না, এতে করে কপাল চওড়া দেখাতে পারে।

* হালকা ব্রাউন রংয়ের ব্লাশার লাগিয়ে চিক হাইলাইট করুন। গাঢ় রঙের ব্লাশার বেছে নিন সন্ধ্যা বা রাতের সময়ের জন্য। পাউডার ব্লাশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম ব্লাশার ভালো। রাউন্ড ব্রাশ ব্যবহার করুন পাউডার ব্লাশ লাগানোর জন্য।

* ড্রেসের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিকের রং বেছে নিন। শাইনের জন্য লিপগ্লসও লাগাতে পারেন।

* নিত্যনতুন চুলের সাজ বদলাতে পারেন। সাইড ব্যাংস মন্দ হবে না। আবার সাইড লেয়ার কাটও করতে পারেন।

* চোখ হাইলাইট করতে এখন খুবই চলছে দুই কিংবা তিন ধরনের রঙের আইশ্যাডোর ব্যবহার। আইশ্যাডো রঙের ক্ষেত্রে ব্রোঞ্জ ও গোল্ড ব্যবহার করুন।

* গাঢ় বেগুনি রঙের নেলপলিশ বেছে নিন।

* সুন্দর করে চুল আঁচড়িয়ে পেছনের দিকে ব্যাক ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখতে পারেন।

* চোখের নিচের অংশে ও ওপরের অংশে ঘন করে কাজল লাগান। কাজল বাইরের দিকে বের করে চোখে লাগান।

* ক্যাজুয়াল লুক পূর্ণ করতে অ্যাসিড পিংক রঙের গ্লস ব্যবহার করুন।

* চুল খুব ভালো করে আঁচড়িয়ে নিন। এরপর হাই পনিটেল করুন। এটি দেখতে খুবই ভালো লাগবে।

* চোখের উপরের ও নিচের পাতায় ঘন করে কালো আইলাইনার লাগান।

* অরেঞ্জ রঙের লিপগ্লস লাগান। দেখতে উজ্জ্বল লাগবে।

খুঁত ঢাকতে মেকআপ

* কনসিলার বা ব্লেমিশ কভার আপস্টিক, মুখের দাগ অথবা ভাঁজ ঢাকতে ব্যবহার করুন।

* আপনার ত্বকের গাঢ় দাগ বা খুঁতের জায়গা ঢাকতে চাইলে ত্বকের রঙের চেয়ে দু-এক শেড হালকা রঙের কনসিলার বা কারেক্টিভ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

* আঙুলের ডগায় নিয়ে হালকা করে দাগের ওপর লাগান। তারপর ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

* ফাউন্ডেশন দেওয়ার পর অতিরিক্ত মেকআপ শুষে নিতে টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন।

* কমপ্যাক্ট লুস পাউডার লাগান এবং কয়েক মিনিট পর ব্রাশ করে নিন। এরপর লিপস্টিক, ব্লাশার আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। আপনার সাজ এখন সম্পূর্ণ।

ঘরে বসেই সহজ মেকআপ

মেকআপের কিছু প্রাথমিক নিয়ম জানা থাকলে ঘরে বসেই মেকআপ করতে পারেন আপনিও। এ জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো প্যানস্টিক, ডাস্ট পাউডার, প্যানকেক, পাফ ও ফোম, ব্লাশন, কয়েক রকম আইশ্যাডো, মাশকারা, লিপস্টিক ও গ্লস, বিভিন্ন রকম চোখের, গালের ও ঠোঁটের ব্রাশ। প্যানকেক ও ডাস্ট পাউডার ত্বকের রং অনুযায়ী বাছাই করবেন। ফর্সারা গোলাপি, শ্যামলারা বাদামি আর কালোরা গাঢ় রং বেছে নেবেন।
মেকআপের আগে চাই ত্বকের যত্ন। ত্বক শুষ্ক হলে মুখ ধুয়ে হালকা করে তরল ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন। ত্বক তৈলাক্ত বা মিশ্র হলে টোনার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলেই চলবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে বরফ বেঁধে মুখে ঘষে নেবেন।

আগে প্রথমে আঙুলের ডগায় প্যানস্টিক নিয়ে মুখের কালো দাগ ঢেকে দিতে হবে। এরপর পাফের সাহায্যে পুরো মুখে ডাস্ট পাউডার লাগাতে হবে ও পানি স্প্রে করতে হবে হালকাভাবে। আঙুলের সাহায্যে চেপে পাউডার মুখে বসিয়ে নিতে হবে। পাউডার বসে গেলে ভেজা ফোমের সাহায্যে প্যানকেক লাগিয়ে নিন। প্রথমে টি জোন, অর্থাত্ কপাল, নাক ও চিবুকে লাগাতে হবে। তারপর আঙুলের সাহায্যে মুখের অন্যান্য অংশে পুরোপুরি মেশাতে হবে। হাতেও প্যানকেক লাগাতে হবে, যাতে ত্বকের রঙে বৈসাদৃশ্য দেখা না যায়। হালকা ফেসপাউডার বুলিয়ে গালের ভাঁজে ব্লাশনের পরশ দিন। তৈরি হয়ে গেল মেকআপের বেজ।

মেকআপের কিছু ভুলভ্রান্তি কাটাতে

* শরীরের রং অনুযায়ী সাবধানে ফাউন্ডেশন বেছে নিন। ভুল করে শেডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে শুধু যে মেকআপ অস্বাভাবিক লাগে তাই নয়, আপনার মুখের অন্য কোনো দাগ থাকলে তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ফাউন্ডেশনের শেড বাছাই করার সময় অল্প একটু নিজের গালে আর চোয়ালের কাছে লাগিয়ে প্রাকৃতিক আলোয় দেখে নিন, কেমন লাগছে।

* ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব ঘন বা মোটা ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। বেছে নিন আপনার ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই কোনো হালকা লিক্যুইড ফাউন্ডেশন। ময়শ্চারাইজার লাগানোর পর সেটা মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

* আপনার মুখের ব্রণ, দাগ বা ডার্ক সার্কল ঢাকার জন্য একগাদা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। ওই কাজটা কনসিলার দিয়ে করা উচিত।

* ত্বকে ফাউন্ডেশন লাগানোর পর খুব ভালো করে ব্লেন্ড করতে ভুলবেন না। আর শুধু ফাউন্ডেশনই নয়, আই শ্যাডোর সঙ্গে আই লাইনার, লিপ লাইনারের সঙ্গে লিপস্টিক যেন ভালোভাবে মিশে যায়।

* ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিমের আগে ফেসপাউডার বা ফাউন্ডেশন লাগাবেন না।

ঋতুভেদে সৌন্দর্য


                                        ঋতুভেদে সৌন্দর্য

 

 

সৌন্দর্য ও রূপ সচেতন নারী পুরুষ সকলেই চান তার সৌন্দর্য স্থায়ী হোক। অর্থাৎ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়। যে কারণে তারা চান এমনভাবে রূপচর্চা করতে যা তার আসল সৌন্দর্য ধরে রাখবে এবং তার সৌন্দর্যে কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না। এ কারণে তার সুন্দর মুখে ব্রণ উঠলে, চোখের নিচে কালো দাগ পড়লে, ঠোঁটের কোণে ঘাঁ হলে, ঘন কালো লম্বা চুল ঝরতে শুরু করলে তার ভাবনার যেন অন্ত থাকে না। তখন রূপচর্চার জন্য কেবল কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী আরও বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে। তখন দরকার রূপচর্চার এমন সামগ্রী যা ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত। তবে রূপচর্চার জন্য সব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সেক্ষেত্রে দিনেরাতে রূপচর্চার যেমন পার্থক্য হবে তেমনি ঋতুভেদে ও উপলক্ষ্য গুলোতেও রূপচর্চার তারতম্য হবে। খুব চমৎকার পোশাকের সাথে যেমন স্যান্ডেল মানানসই নয়, কোন উপলক্ষ্যে সাধারণ পোশাক যেমন দেখতে খারাপ লাগে তেমনি রুপচর্চায় কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী ক্ষতিকারক হলেও হারবাল এবং কেমিক্যাল উপাদানের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার আপনার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপাদান ও কেমিক্যাল প্রসাধনীর এমন ব্যবহার করতে হবে যাতে আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সৌন্দর্যে কোন ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে ।

ত্বক: ঋতুভিত্তিক ত্বকের নানা সমস্যা হতে পারে। সেকারণে ত্বকের জন্য দরকার বাড়তি যত্ন। যেহেতু গ্রীষ্ম ও বর্ষা পাশাপাশি দুইটি ঋতু এবং এই দুই ঋতুতেই ত্বকের উপর সহজেই ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে। ত্বক তখন অনেকটা রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল হতে পারে এবং ত্বকে র‌্যাশ ও ব্রণের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এই ঋতু গুলোতে ত্বকের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। এই সময়ে এমনভাবে ত্বকের যত্ন প্রয়োজন যা ত্বককে উজ্জ্বল করবে এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী, প্রকৃতিক উপাদান, খাবার সবদিকের বিবেচনা করতে হবে। সবদিকের প্রতি সামঞ্জস্য পূর্ণ সচেতনতা ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতি থেকে ত্বককে মুক্ত রাখবে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাতে ত্বকের যত্নের কিছু টিপস্‌ দেয়া হল:

গ্রীষ্মে ত্বকের যত্ন:
১. গরমে শুষ্ক ত্বকের জন্য রূপচর্চা একান্ত জরুরী। ত্বক তৈলাক্ত হলে শসা বাটা ও মশুরী ডাল বাটা দুটো পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেললে তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে। তবে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

২. লাউয়ের রস ও তরমুজের রস বরফ করে মুখে ঘষুন। এতে ত্বক মোলায়েম ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তবে ত্বকে ব্রণের সমস্যা থাকলে কখনও বরফ ঘষবেন না। তাহলে ব্রণ ও ব্রণের দাগ মুখে বসে যাবে।

৩. রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে কমলার খোসা বেটে মুখে ১০ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. সপ্তাহে দু’দিন কাঁচা হলুদ, মশুরীর ডাল, দুধ বা দুধের সর একসাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৫. পানিতে কয়েক ফোটা গোলাপজল মিশিয়ে দিনে দু’বার গোসল করতে পারলে শরীরটা ফুরফুরে থাকে।

এই গরমে মেকআপের প্রতিও আপনাকে সচেতন হতে হবে । অতিরিক্ত মেকআপের ফলে ত্বকে নানা সমস্যা হতে পারে । তাই মেকআপ ও অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

১. রোদে বাহিরে বের হবার সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে । সানস্ক্রিনের এসপিএফ ৩০ হওয়া ভালো । তবে সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর এসপিএফ অবশ্যই ১৫ হতে হবে। এসময়ে ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. গ্রীষ্মে হালকা মেকাআপ করা ভাল। অতিরিক্ত মেকআপের ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে । মেকআপ তোলার সময় অবশ্যই ভেজা টিস্যু দিয়ে ঘষে ঘষে তুলতে হবে।

৩. দাগহীন সুন্দর ত্বকে ফাউন্ডেশন এর পরিবর্তে ফ্রি ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। তবে ফউন্ডেশন লুজ পাউডারের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। রক্ত চন্দন ময়েশ্চারাইজার সান প্রটেক্টিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

৪. জামা কাপড়ে পারফিউম লাগাবেন না, কারণ তাতে ত্বকে দাগ পড়ে যেতে পারে। এছাড়াও ঘামের উপর সরাসরি পারফিউম ব্যবহারের ফলে উগ্র গন্ধ বের হতে পারে ।

৬. কবজি, ঘাড়, গোড়ালি, বগল এবং হাটুর পিছনে পারফিউম লাগালে আপনি স্বাচ্ছন্ধ বোধ করবেন।
৭. ন্যাচারাল কুলিং ইফেক্ট রয়েছে বলে গোলাপ চন্দন সমৃদ্ধ শাওয়ার জেল, বডি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
তবে গরমে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার্থে কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। রোদে বের হলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে বের হতে হবে। সিল্কের ড্রেস গরমে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কারণ সিল্কের কাপড় ঘাম বের হতে বাধা দেয়। তাই এ সময় হালকা রং এর সুতি পোশাক ব্যবহার করা উত্তম। কারণ সুতি পোশাক ঘাম শুষে নেয়। গরমে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই সানগ্লাস নিতে ভুলবেন না । এ সময় খাবারের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলে অবশ্যই ভাজা পোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। যতটা সম্ভব পানি ও পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে ফল ও শাক সবজি রাখতে হবে। এসময় চোখের সুন্দর রাখতে অল্প মাসকারা ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁটে হালকা লিপ লাইনার, কোরাল বা পিংক গ্লসি ব্যবহার করা যায়। যতটা সম্ভব হালকা মেকআপ করা ভাল। পায়ের ত্বক সুন্দর রাখতে চটি জুতা ব্যবহার করতে পারেন। লেদার ব্যাগের পরিবর্তে জুট, কটন ফ্যাবিক্স বা বেতের ব্যাগ ব্যবহার করলে আপনার সাজ পূর্নাঙ্গ হবে।বর্ষায় ত্বকের যত্ন:
১. বর্ষার সময় ত্বকে একটা ম্যাড়ম্যাড়ে ভাব দেখা যায়। বিবর্ণ ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পেঁপের ক্বাথ ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখতে হবে।

২. বর্ষাকালে রোদ কম থাকলেও সূর্যরশ্মি প্রতিফলনের জন্য এ সময় অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

৩. মুখে ব্রণ হলে নিমপাতা ও চন্দনবাটা লাগাতে হবে। যদি এ সময় ব্রণের দাগ বসে যায় তবে চন্দনবাটা, হলুদ ও লবঙ্গবাটা, জয়ফল গুঁড়োর সঙ্গে আপেল ও কমলালেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে হবে এবং ২০ মিনিট পরে কাঁচা দুধ তুলোয় মিশিয়ে মুছে নিতে হবে।

৪. গোসলের সময় গোলাপের পাপড়ি ও কাঁচা হলুদবাটা, বেসন ও দই এক সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। গোলাপের সুগন্ধ সারাটাদিন আপনাকে ঘিরে থাকবে এবং মন মেজাজ ফুরফুরে রাখবে।

৫. স্কিন টনিক হিসেবে ফুটন্ত পানিতে জুঁই এবং গোলাপের পাপড়ি সেদ্ধ করে ঠান্ডা করে
ফ্রিজে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন মত তুলোয় ভিজিয়ে মুখে লাগাতে হবে।

৬. বর্ষায় ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দুধের সর ও গোলাপের পাপড়িবাটা ব্যবহার করা ভাল।

৭. বর্ষায় ক্লিনজিংয়ের জন্য ময়দা ও দুধের সর মুখে, গলা ও হাতে লাগিয়ে আধ শুকানোর পর আস্তে আস্তে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। হালকা গরম পানিতে কর্পূর মিশিয়ে তাতে তোয়ালে ভিজিয়ে মুখ, গলা, ঘাড় ও কানের পাশ পরিষ্কার করতে হবে।
বর্ষাকালে খাবারের সতর্কতার ক্ষেত্রে অবশ্যই তেল মশলাযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে ফল, শাক-সবজি, পানি এবং পানি জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকবে। এছাড়াও এ ঋতুতে বার বার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া ভাল। তবে বর্ষাকালে ত্বকের বাড়তি যত্ন হিসেবে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার টিপস্‌ গুলো একটু সতর্কভাবে ও নিয়ম মত পালন করাই উত্তম।

চুল: চুল বাঙালি নারীর সৌন্দর্যের আসল পরিচয়। ঘন কালো লম্বা চুল ও আগা গোড়া সমান চুল সকলের পছন্দ। সুন্দর চুলের জন্য, চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে এবং চুলকে ঝলমলে করতে যেমন ভাবনার অন্ত থাকে না; তেমনি সুন্দর চুল ঝরতে শুরু করলে, চুলের আগা ফাটতে শুরু করলে, চুলে লালচে ভাব দেখা দিলে, চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে গেলে অথবা চুল খুব পাতলা হলে চুলের আলাদা যত্নের প্রয়োজন হয়। সবদিক বিবেচনায় চুলের যত্ন করতে হবে। চুলের যত্নে খাবারের ব্যাপারে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি ঋতু বেঁধে চুলের যত্নেরও অনেক পার্থক্য আসবে।

গ্রীষ্মে চুলের যত্ন:
১. সপ্তাহে দু’দিন অবশ্যই চুলে শ্যাম্পু করতে হবে। শুষ্ক চুলে অবশ্যই কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

২. চুলে শ্যাম্পুর করার ১ ঘণ্টা আগে হালকা গরম নারিকেল তেল চুলের গোড়ায় ম্যাসেজ করতে হবে।

৩. চুল ঝরঝরে করতে মাথায় লেবুর রস ও পিঁয়াজের রস একসাথে মেখে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪. চুল সুন্দর, নির্মল ও ঝরঝরে রাখতে মাসে অন্তত দু’বার মেহিদী বাটা, টক দই, ডিম, এক চামচ অলিভ অয়েল এক সাথে পেস্ট করে চুলে মেখে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে হবে।

৫. ভেজাচুলে বাইরে গেলে চুলে ময়লা বসে যেতে পারে। তাই বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই চুল শুকিয়ে নিতে হবে। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে আঁচড়াতে হবে তাহলে চুলে ময়লা বসতে পারবে না।

গ্রীষ্মকালে চুলের যত্নের জন্য অবশ্যই প্রোটিন, ভিটামিন ও স্নেহ পদার্থ জাতীয় খাবার খেতে হবে। তবে রোদে বের হতে হলে অবশ্যই ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে হবে । চুলে যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে সে জন্য খুব আটোভাবে স্কার্ফ ব্যবহার করা ঠিক নয়। চুলে কখনই ময়লা বসতে দেয়া যাবে না। কারণ ময়লা বসে গেলেই চুলে খুসকি হবে। তাই চুল সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তবে চুলে অতিরিক্ত পরিমাণে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা চুল ঝরতে শুরু করলে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বর্ষায় চুলের যত্ন:
১. এ সময় ঘন ঘন শ্যাম্পু করা যাবে না । সপ্তাহে দু’দিন শ্যাম্পু করতে হবে।

২. তৈলাক্ত চুলে লাইট কনডিশনার এবং শুষ্ক চুলে ডিপ ময়শ্চারাইজিং কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

৩.চুলে খুসকি থাকলে অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ও নিয়মিত কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

৪.এসময় চুল রুক্ষ হয়ে পড়লে স্ট্রবেরি ও বেলের ক্বাথ, মধু ও ডাবের পানি মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে হবে।

৫. জবা ফুল ,দূর্বা ঘাস, নারিকেল তেল ও নিম পাতাবাটা এ সময়ে চুলে লাগানো খুবই ভালো।

৬.চুল ঝরঝরে ও খুসকিমুক্ত রাখতে মেথিদানা ও জিরে দুধে ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। পরদিন বেটে এতে নারিকেল তেল জবা ফুল, তুলসীপাতা ও বেল পাতাবাটা মেশাতে হবে এবং চুলে লাগাতে হবে।

৭.চুল খুব পাতলা হলে শ্যাম্পুর সঙ্গে ডিম ও পাউডার জিলেটিন মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

৮.চুলের মসৃণতা ফিরে পেতে হলে কচি আমলকীর রস ক্যাস্টর অয়েলে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রাখতে হবে এবং পরে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করতে হবে।

৯.এছাড়াও এ সময় চুলে নারকেল তেল নিশিন্দাপাতা, আনারস, তুলসীপাতা ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে লাগানো ভাল।

১০. চুলের রুক্ষতা কাটাতে ডিম, টকদই, পাকা পেঁপের ক্বাথ, মধু, নারিকেল তেল, কেশুত পাতা ও আদার রস, আমলা, শিকাকাই পাউডার ও পাতি লেবুর বীজ এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পুরো চুলে লাগিয়ে ৪০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।

বর্ষাকালে চুলের যত্নের জন্য আরও কিছু বিষয়ের প্রতি সতর্ক হতে হবে। বর্ষাকালে বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে বের হতে হবে। চুল কখনই ভেজা রাখা যাবে না। কারণ চুল ভেজা রাখলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুলে ফাঙ্গাশ পড়তে পারে। ভেজা চুল কখনও আচড়াবেন না। ফ্যানের বাতাস কিংবা চুল শুকানোর মেশিন দিয়ে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। ঘাম জমে মাথায় ফোড়া বা ফুসকুড়ি হলে প্রতিদিন গোসলের আগে বিচিছাড়া বেলের শাঁস চটকে মাথার তালুতে লাগাতে হবে। এভাবে এক ঘন্টা রেখে রিঠা ও আমলা ভেজানো পানিতে শ্যাম্পু করতে হবে ।

নখ: হাতের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে নখে। নখ সুন্দর করে সাইজ করা থাকলে এবং পরিষ্কার থাকলে হাত দেখতে ভাল লাগে। এছড়াও সুন্দর হাতে সুন্দর করে নখ সাইজ করা থাকলে এবং ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে নেল পলিশ দেয়া থাকলে হাত আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। নখ সুন্দর রাখতে হাত ও পা উভয় নখের কথা ভাবতে হবে। তাই হাতের নখের পরিচর্যা করতে মাসে ৩/৪ বার বাড়িতে বা পার্লারে ম্যানিকিউর করতে হবে এবং পায়ের নখের জন্য মাসে ২/৩ বার পেডিকিউর করতে হবে।

এছাড়াও নখের বাড়তি যত্নের জন্য :

১. দিনে দু’বার সাবান পানিতে কবজি থেকে নখ পর্যন্ত হাত ধোয়া এবং পায়ের নখ থেকে পাতা পর্যন্ত ধোয়া উচিত।

২. হাত-পা ধোয়ার পর তেল, ক্রিম বা লোশন মাখতে হবে।

৩. হাত-পা সব সময় শুকনো রাখতে হবে।

৪. নখের যত্নের জন্য অতিরিক্ত পানি, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম, ক্ষার জাতীয় পানি খুব ক্ষতিকারক।

৫. নখের যত্নের জন্য নেল এনামেল ব্যবহার খুবই উপকারী। কারণ এগুলো নখের উজ্জ্বলতার সাথে সাথে নখকে মোটা করে, ফলে নখ খুব সহজেই ভেঙ্গে যায় না।

বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা

                                  বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা


একজন পূর্ণাঙ্গ রমণীর ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বাণু নির্গত হয়। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রজনন বয়স ধরা হলেও ৩৫ বছরের পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রজনন বয়সের শেষ দিকে ডিম্বাণু নিঃসরণ প্রতি মাসে না-ও হতে পারে। প্রজনন বয়সের মধ্যে প্রতি মাসেই একজন মহিলার ২৮ থেকে ৩৫ দিন ব্যবধানে ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। ঋতুস্রাব মহিলাদের ডিম্বাণু নিঃসরণের একটি প্রমাণ। যদিও কখনো কখনো ডিম্বাণু নিঃসরণ ছাড়াও ঋতুস্রাব হতে পারে। ২৮-৩০ দিনের ব্যবধানে যাদের ঋতুস্রাব হয় তাদের সাধারণত ১৩তম, ১৪তম ও ১৫তম দিনগুলোর কোনো একসময় ডিম্বাণু নির্গত হয়। এ সময়কে বলে প্রজনন সময়। এ সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মিলন হলে স্বামীর শুক্রাণু ও স্ত্রীর ডিম্বাণু ডিম্বনালির প্রায় শেষ প্রান্তে, অম্বুলা নামক জায়গায় মিলিত হলে নিষেক সংঘটিত হয়। নিষেকের ফলে যেটি তৈরি হয় সেটিকে ভ্রূণ বলে। এ ভ্রূণ চক্রবৃদ্ধি হারে বিভক্ত হতে থাকে এবং ডিম্বনালি অতিক্রম করে নিষেকের সপ্তম দিন জরায়ুতে প্রবেশ করে এবং জরায়ুগাত্রে দৃঢ় হয়ে স্থাপিত হয়। পরে এখানেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ২৮০ দিন পরে পূর্ণাঙ্গ মানবশিশু ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু কোনো দম্পতি এক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছাড়া একই সাথে বসবাস ও মিলনের পরও যদি সন্তান ধারণ না করে থাকেন, তাকে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বলে। এটি হতে পারে প্রাথমিক যাদের কখনোই গর্ভসঞ্চারণ হয়নি অথবা মাধ্যমিক যাদের আগে গর্ভসঞ্চারণের পর এখন আর গর্ভসঞ্চারণ হচ্ছে না। সাধারণত ৮০ শতাংশ দম্পতির চেষ্টার প্রথম বছরের মধ্যেই সন্তান হয়ে থাকে। ১০ শতাংশ দম্পতির দ্বিতীয় বছরের মধ্যে হয়ে থাকে। বাকি ১০ শতাংশের কোনো না কোনো কারণে সন্তান ধারণে অসুবিধা হয়ে থাকে এবং তাদের জন্যই সেপশাল চিকিৎসা দরকার। এই না হওয়ার পেছনে স্বামী-স্ত্রী দুজনের যে-কেউই কারণ হতে পারেন। আবার সমিমলিত অসুবিধার কারণেও হতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু স্বামী দায়ী, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু স্ত্রী দায়ী এবং ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দায়ী।

বন্ধ্যাত্বের কারণ
সন্তান ধারণে ব্যর্থতার কারণ অগণিত। কারণ যা-ই হোক, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা বিদ্যমান। তবে কারণগুলো নিরূপণের পদ্ধতি ও চিকিৎসাপদ্ধতি সহজতর ও স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ থেকে শুরু করে জটিলতম ও বহুল ব্যয়সাপেক্ষ পর্যন্ত হতে পারে।

ডিম্বাণু তৈরি হওয়া (অনেক কারণে ডিম্বাণু তৈরি হয় না)।
ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা কার্যক্রম না থাকলে।
এন্ডোমেট্রিওসিস নামক ডিজিজের ফলে।
জরায়ুতে টিউমার হলে।
জরায়ুগ্রীবার শুক্রাণুর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ভাব থাকলে।

পুরুষদের মধ্যে মুখ্য কারণ হলো
শুক্রাণুর পরিমাণ কম থাকলে।
শুক্রাণুর আকৃতি স্বাভাবিক না থাকলে।
শুক্রাণুর চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে।
শুক্রাণু অনুপস্থিত থাকলে।
মিলনে স্বামীর অক্ষমতা থাকলে।

এ ছাড়া সমিমলিত সমস্যার কারণে না হতে পারে এবং কখনো কখনো উভয়ের কোনো কারণ ছাড়াই সন্তান না হতে পারে। যখন কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়া যায়, তখন তাকে ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যাত্ব বলে।

চিকিৎসা
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। মানবজাতির স্বাভাবিক প্রজননের হার অন্যান্য প্রজাতির চেয়ে অনেক কম। জনসংখ্যা বিসেফারণের দেশে বাস করে এ কথা অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি এটিই যে ১০০ জন দম্পতি যাদের কোথাও কোনো সমস্যা নেই তারা তাদের প্রজনন সময় একত্রে বসবাস করলেও মাসে গর্ভসঞ্চার হবে মাত্র ২০ জনের। স্ত্রীর বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ হার আরো কমতে থাকে। সন্তান ধারণে ব্যর্থ হলে স্বামী-স্ত্রীর কোথাও না কোথাও সমস্যা বিদ্যমান থাকা স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা করে প্রজননের হার স্বাভাবিক হারের চেয়ে কম বই বেশি করা দুরূহ ব্যাপার। আর সে জন্যই বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা হলো ধাপে ধাপে চিকিৎসা। বিভিন্ন ধাপের কোনো এক ধাপে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। এই ধাপে ধাপে চিকিৎসার জন্যই চিকিৎসার সময় দীর্ঘায়িত হয়। অন্য কোনো অসুস্থতার মতো চট করে এটির সমাধান দেখা যায় না। তবে অবশ্যই স্ত্রীর বয়সের দিকে এবং বন্ধ্যাত্বের কারণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বন্ধ্যাত্বের স্বপ্ন পূরণে টেস্টটিউব বেবি
বর্তমানে অনেক দম্পতি টেস্টটিউব বেবির মাধ্যমে সন্তান গ্রহণ করছেন। টেস্টটিউব পদ্ধতিতে দুটি ভাগ আছে। একটি আইভিএফ (IVF), অন্যটি ইকসি (ICSI)। আইভিএফে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণুকে প্রকৃতিগত পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে একটি গ্লাসের পাত্রে মিলিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ পাত্রটি একটি বিশেষ ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং সেখানেই নিষেক হয়ে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। এ পদ্ধতিতে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব বলে একাধিক ভ্রূণ তৈরি হয়ে থাকে। তা থেকে সবচেয়ে ভালো মানসম্পন্ন তিনটি ভ্রূণকে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, যা পরে স্বাভাবিক গর্ভসঞ্চালনের মতোই বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশু হয়। পদ্ধতিটির প্রসারিত নাম ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। ভিট্রো একটি ল্যাটিন শব্দ যার ইংরেজি পরিভাষা গ্লাস। এই গ্লাসের পাত্রে নিষেক হয় বলেই এর নামকরণ হয়েছে টেস্টটিউব বেবি। ইকসি টেস্টটিউব পদ্ধতির আর একটি ভাগ। এ পদ্ধতিতে ডিম্বাণু সংগ্রহের পর একটি ডিম্বাণুর ভেতরে একটি শুক্রাণুকে ইনজেক্ট করে দেয়া হয়।

আইভিএফে একটি পাত্রে একটি ডিম্বাণুর সাথে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ শুক্রাণু ছেড়ে দেয়া হয়। তা থেকে একটি শুক্রাণু নিজ ক্ষমতাবলে ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করে। যখন শুক্রাণুর পরিমাণ অতি মাত্রায় কম থাকে কিংবা মোটেই থাকে না, তখন ইকসি করা হয়। বীর্যে শুক্রাণু অনুপস্থিত থাকলে অণ্ডকোষ থেকে ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে শুক্রাণু পরিপক্ব কিংবা অপরিপক্ব পর্যায়ে বের করে একটি বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। পরে ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং বাকি পর্যায় আইভিএফের মতোই।