Friday, 25 July 2014

সৌন্দর্য চর্চায় বিপাকও আছে----


সৌন্দর্য চর্চায় বিপাকও আছে!




আজকের দিনে রূপচর্চাটা জীবনেরই অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দর হয়ে উঠবার দৌঁড়ে পিছিয়ে থাকতে চাচ্ছেন না কেউই। এজন্য প্রতিদিনই পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুব গুছিয়ে রাখতে ব্যস্ত সবাই । প্রয়োজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিউটি পার্লারে সময় কাটাতেও দ্বিধা নেই। বিষয়টিকে মাথায় রেখে অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিউটি পার্লার। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন নিজেকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে ক্ষতিকর কিছু করে ফেলছেন না তো!
beauty-parlor
বিউটি পার্লারে চলছে রূপ চর্চা
আপনার সৌন্দর্য চর্চা অব্যহত থাকুক তবে একইসাথে কিছু বিষয় মেনে চলুন। বিউটি পার্লারে কি কি বিষয়ে নজর রাখবেন তা জানাচ্ছে অর্থসূচক-
বিউটি পার্লারে যে প্রোডাক্টসমূহ ব্যবহৃত হয় সেগুলি ঠিক কিনা। সেখানে সঠিক উপায়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা হয় কিনা তা খেয়াল করুন।
শরীরের অতিরিক্ত লোম থেকে মুক্তি ও সুন্দর ত্বকের জন্য ওয়াক্সিং সঠিক কিন্তুএর প্রতি আপনার অবহেলা ত্বক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। কারণ ওয়াক্সিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ওয়াক্সের মানের দিকে সাধারণত আপনার নজর থাকে না। ওয়াক্সিংয়ের সময় কাপড়ের স্ট্রিপ্স একেবারেই নয়ব্যবহার করা উচিৎ ডিসপোজাল স্ট্রিপ্স। অনেক সময় একসঙ্গে অনেক কাস্টমারের ওয়াক্সিং করা হয় এবং একই ওয়াক্স স্ট্রিপ্সের ব্যবহার করা হয়, এটি সরাসরি সংক্রমণের কারণ। তাই ওয়াক্সিংয়ের সময় খেয়াল রাখবেন যাতে নতুন ওয়াক্স ও স্ট্রিপ্স ব্যবহার করা হয়। ওয়াক্স করা সময় যে টুল ব্যবহার করা হয় তাও যেন স্টেরিলাইজড হয়। অন্য কারও ত্বকে ব্যবহৃত ওয়াক্স বা টুল ব্যবহারের ফলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
টিনএজদের ফেসিয়াল করা উচিত না। এতে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পরে। ত্বক কালচে হতে পারে। ব্রণ ও র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। ত্বক হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ। ফেসিয়ালে সাধারণত মার্কস,প্যাক ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বাবহৃত হয়। যেগুলো টিনএজ  ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
চুলে কালার করার ফ্যাশন এখন তুঙ্গে। মেয়েরা হেয়ার স্ট্রিপ্স কালারিং বা হেয়ার ব্লিচ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। কিন্তু কালারিং বা ব্লিচ গোটা চুলেই হোক বা সামান্য কিছু অংশে ক্ষতি পরিমাণ একই থাকে। হেয়ার ডাই,কালার বা ব্লিচে বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল থাকে। যেমন-পিপিডি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যামোনিয়া, সালফেট, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সবই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে শ্বাসকষ্ট ও ত্বকের সমস্যা হতে পারে।
বারবার বা কম সময়ের ব্যবধানে চুলে ট্রিটমেন্ট করলে চুলের আগা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়।
হেয়ার স্ট্রেটনিং এখন খুবই সাধারণ বিষয়। তাই চুল স্ট্রেট করার জন্য বাজারে প্রচুর স্ট্রেটনিং আয়রন পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধরণের হেয়ার ট্রিটমেন্ট চুলের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। বাড়িতে হোক বা পার্লারে চুল স্ট্রেট করার জন্য কেমিক্যাল, স্ট্রেটনার ও ড্রায়ার ব্যবহার করা হয়। এগুলো সবই চুলের আদ্রতা কমিয়ে চুলকে রুক্ষ করে দেয়। এতে চুল দুর্বল হয়ে খুব সহজেই পড়ে যায়।
হাত-পা সুন্দর রাখার জন্য পেডিকিওর-ম্যানিকিওরে আগ্রহ্টাও বেশ। কিন্তু এই ধরনের ট্রিটমেন্টের জন্য সবচেয়ে বেশি বিউটি টুলসের প্রয়োজন পড়ে। এই টুলস থেকেই হাজারও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এই সরঞ্জামগুলি সবই আপনার ত্বকের সংস্পর্শে আসে। তাই এগুলোযদি স্টেরেলাইজ না থাকে তবে এগুলো থেকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে। পেডিকিওর করার সময় গরম পানি ও সাবান ব্যবহার করা হয়, এতে হাজারও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না নিজেকে সুন্দর দেখাতে গিয়ে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা ভোগ করতে। তাই সৌন্দর্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন। যেকোন বিউটি ট্রিটমেন্টের আগে সেগুলির পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন সঙ্গে খেয়াল রাখুন পরিচ্ছন্নতার দিকটিও।

Thursday, 24 July 2014

সতীত্ব প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা

সতীত্ব প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা



গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে গরম লোহার রড চেপে ধরে সতীত্বের প্রমাণ দিতে হবে গৃহবধূকে। এই অগ্নীপরীক্ষায় টিকে থাকতে পারলেই কেবল স্বামীর সাথে ঘর করতে পারবেন তিনি। এমন অমানবিক কাজ করতে জোর করা হয়েছে তাকে, ভারতের আদালতে অভিযোগ করলেন ২৫ বছরের এক গৃহবধূ পুণম।
বুধবার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী, শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৪৯৮ এ ধারায়  মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় আদালত।
পুনমের আইনজীবী সন্তোষ খোয়ারে জানান, স্থানীয় কঞ্জর সম্প্রদায়ের মেয়ে পুনমের সাথে কুণালের ২০০৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুনমের কাছে ২ লক্ষ টাকা পণ চেয়ে তাঁর ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা পুনমের চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে।
বুধবার অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়ায়। এলাকার পঞ্চায়েতের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে বলেন শাশুড়ি। পুনম তা মেনে না নিয়ে আদালতের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন।
সূত্র: ইন্টারনেট

Tuesday, 22 July 2014

পেটে চর্বি জমা

Photo: পেটে চর্বি জমা 

পেটে চর্বি জমা সব বয়সের নারীদের জন্যই একটি প্রধান সমস্যা। আসুন জেনে নেয়া যাক এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়।
১. এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু ও একটু লবণ দিয়ে শরবত তৈরি করে প্রতিদিন সকালে খাবেন।
২.সকালে দুই বা তিন কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে। লেবুর শরবত পান করার পরই এটি খেয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ পদ্ধতিটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি দ্বিগুণ গতিতে করবে। একই সঙ্গে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন হবে মসৃণ গতিতে।
৩. সকালের নাশতায় অন্য খাবারের পরিমাণটা কমিয়ে সেখানে স্থান করে দিতে হবে ফলের। প্রতিদিন সকালে এক বাটি ফল খেলে পেটে চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যাবে।
৪. পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে হলে পানির সঙ্গে করতে হবে বন্ধুত্ব। কেননা পানি আপনার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর সব কিছু বের করে দিতে সাহায্য করে।
৫. সাদা চালের ভাত থেকে দূরে থাকুন। এর পরিবর্তে আটার তৈরি খাবার খেতে হবে।
৬. দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করুন আপনার খাবার। এগুলো শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
৭. চিনিজাতীয় খাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পেট ও ঊরুতে। পেটের চর্বি থেকে রেহাই পেতে হলে চিনি এবং চিনিজাতীয় খাবারের সঙ্গে শত্রুতা ছাড়া উপায় নেই।

পেটে চর্বি জমা


পেটে চর্বি জমা সব বয়সের নারীদের জন্যই একটি প্রধান সমস্যা। আসুন জেনে নেয়া যাক এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়।
১. এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে লেবু ও একটু লবণ দিয়ে শরবত তৈরি করে প্রতিদিন সকালে খাবেন।
২.সকালে দুই বা তিন কোয়া কাঁচা রসুন খেতে হবে। লেবুর শরবত পান করার পরই এটি খেয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ পদ্ধতিটি আপনার শরীরের ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি দ্বিগুণ গতিতে করবে। একই সঙ্গে আপনার শরীরের রক্ত সঞ্চালন হবে মসৃণ গতিতে।
৩. সকালের নাশতায় অন্য খাবারের পরিমাণটা কমিয়ে সেখানে স্থান করে দিতে হবে ফলের। প্রতিদিন সকালে এক বাটি ফল খেলে পেটে চর্বি জমার হাত থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যাবে।
৪. পেটের চর্বি থেকে মুক্তি পেতে হলে পানির সঙ্গে করতে হবে বন্ধুত্ব। কেননা পানি আপনার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর সব কিছু বের করে দিতে সাহায্য করে।
৫. সাদা চালের ভাত থেকে দূরে থাকুন। এর পরিবর্তে আটার তৈরি খাবার খেতে হবে।
৬. দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করুন আপনার খাবার। এগুলো শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে রাখতে সহায়তা করে।
৭. চিনিজাতীয় খাবার শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বি ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে পেট ও ঊরুতে। পেটের চর্বি থেকে রেহাই পেতে হলে চিনি এবং চিনিজাতীয় খাবারের সঙ্গে শত্রুতা ছাড়া উপায় নেই।

মুখের রঙ ফর্সা করুন

মুখের রঙ ফর্সা করুন

 

* আলুর চোকলা ছাড়িয়ে আলুটা ভাল করে কিষে নিন৷ এই কেষা আলুটা মুখে লাগান৷ এতে আপনার মুখের কালো ছাপটা দূর হয়ে যাবে৷ ত্বকও নমনীয় হবে৷

* মালাই আর গোলাপ জল মিশিয়ে হালকা ম্যাসেজের মধ্যে দিয়ে মুখে লাগান৷ এটা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে৷

* দুধ আর মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে ঘাড়,হাত এবং পায়ে মালিশ করুন৷ এতে ত্বক নমনীয় হবে৷

* পেঁপে ভাল করে চটকে এর মধ্যে মধু আর দুধ মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরী করুন৷ এই প্যাকটা মুখে ও হাতে লাগিয়ে কিছুক্ষন রাখার পর ধুয়ে ফেলুন৷ এতে ত্বকের সব নোংরা দূর হয়ে যাবে৷






 বেসন আর হলুদ লাগান
বেসন আর হলুদ লাগান
বেসনের সঙ্গে হলুদ ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান ৷ত্বক উজ্জ্বল হবে৷
গোলাপ জল চাকচিক্য বাড়ায়
মুখে প্রতিদিন গোলাপ জল লাগান৷ ত্বকের গ্ল্যামার বাড়বে৷
ত্বক মোলায়েম করে পুদিনা
পুদিনা বেটে মুখে লাগানোর পরে 20-25 মিনিট রাখার পরে ধুয়ে ফেলুন৷ ত্বক মোলায়েম হবে৷
মেথি ডেনড্রাফ দূর করে
100 গ্রাম মেথিদানা জলের মধ্যে মিশিয়ে তা পিষে মাথায় লাগান খুসকী কমে যাবে৷
গাজরে খুসকী নাশ
গাজরের রস মাথায় লাগান খুসকী কমে যাবে৷


 ব্রোনো দূর করার টিপস
ত্বকের উজ্জ্বাল্য এবং সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় ব্রোনো৷ ব্রোনো থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করুন৷

* বেশী পরিমাণে নিরামিষ খাবার৷ আমিষ খাবার যতটা সম্ভব না খাওয়ার চেষ্টা করুন৷

* ডেয়ারী প্রোডাক্টসের মধ্যে হরমোনাল কন্টেন্ট বেশী পরিমাণে রয়েছে যা খুব সহজে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়৷ এই কারণেই পনীর, দুধ এবং দই কম খান৷

* কোল ডিঙ্ক্রস খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন৷

* আচার খাবেন না৷ তবে মিষ্টি চাটনি খেতে পারেন৷

* খুব বেশী পরিমাণে জল খান৷ দিনে যদি দু লিটার জল খেতে পারেন তা আপনার স্বাস্থ্য এবং ত্বকের ক্ষেত্রে ফলদায়ক হবে৷ জল বেশী খাওয়ার ফলে শরীর থেকে পিত্ত বেরিয়ে যাবে৷ আপনি ব্রোনোর সমস্যা থেকে পরিত্রান পাবেন৷

* আয়ুর্বেদের মতে অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে শরীরে পিত্ত সঞ্চিত হয়৷ তাই ক্রোধ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখুন৷




 চোখের নীচের কালো ছাপ মেটান
গরমের দিনে রাতে শোওয়ার আগে চোখে গোলাপ জল দিতে কখনও ভুলবেন না৷ এছাড়া শশা, কাচা দুধের ক্রিমটাও চোখের জন্য উপকারী৷ এগুলো চোখে দিলে কখনও চোখ জ্বালা অনুভব করবেন না৷ চোখের নীচের কালো ছাপও মিটে যাবে৷




 সহজ উপায়ে ব্রন কমান
অনেকে প্রকৃত সুন্দরী হলেও ব্রনর সমস্যার জন্যে তাদের রূপ প্রকাশিত হতে পারেনা৷ ব্রন সমস্যাকে খুব সহজ ঘরোয়া উপায়ে মেটানো সম্ভব৷ এর জন্যে পরিস্কার আটার সাথে কিছুটা পরিমান মধু, পাতিলেবুর রস এবং বাদাম বাটা মিশিয়ে নিন৷ এবার এই মিশ্রনটিকে প্রতিদিন মুখের প্রলেপের মতন করে লাগাতে থাকুন৷ কয়েক সপ্তাহ ধরে এই নিয়ম মেনে চললে আপনার ব্রন সমস্যা একেবারে কমে যাবে৷




মেকআপে কিছু সচেতনতা

মেকআপে কিছু সচেতনতা


আমরা প্রায়ই মেকআপ করাকে একটি হালকা কাজ বলে মনে করি। অনেকেই মেকআপ করাটাকে কোনোরকম ঘষামাজার আওতায় ফেলে দেন। কিন্তু এর জন্য চাই কিছু সচেতনতা, কেননা সবার ত্বকের গড়ন এবং গায়ের রং যে একেই রকম হবে তেমনটি কিন্তু না। যেমন যাদের গায়ের রং ফর্সা তাদের অবশ্যই হালকা মেকআপ করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহারে ফর্সা ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ও মসৃণতাকে নষ্ট করে দেয়। তা ছাড়া দিনের বেলায় ফর্সা ত্বকে ক্রিমবেইস মেকআপ করা যেতে পারে। তবে রাতের পার্টিতে একটু গাঢ় রঙের মেকআপ ব্যবহার করলে দেখতে ভালো লাগবে। গায়ের রং যাদের শ্যামলা তারা চাইলে সব ধরনের মেকআপ ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি যাদের গায়ের রং কালো তারা দিনে অথবা রাতে যেকোনো সময় গাঢ় রঙের মেকআপ মুখে লাগাতে পারেন। কারণ গাঢ় রঙের মেকআপ চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। তা ছাড়া ত্বকের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে ভালো মানের ফেস পাউডার বা ফেস মেকআপ ব্যবহার করা উচিত। ফর্সা ত্বকে উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো অনেক বেশি মানানসই। এ ক্ষেত্রে গোলাপি, হালকা আকাশি রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। দিনের বেলায় যেকোনো পার্টি সাজে উজ্জ্বল রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করাই উত্তম। তবে রাতের পার্টিতে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। বেগুনি, ব্ল্যাক, নীল, হ্যাজেল, গ্রিন, কোরাল বা যেকোনো গাঢ় রঙের আইশ্যাডো রাতের পার্টিতে অনেক বেশি মানানসই। শ্যামলা ত্বকে উজ্জ্বল বা গাঢ় যেকোনো রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ শ্যামলা ত্বকে যেকোনো রঙের আইশ্যাডো সহজেই মানিয়ে যায়। যাদের গায়ের রং কালো তারা দিনের অথবা রাতের পার্টির সাজে অবশ্যই ব্রাউন, ভায়োলেট, কোরাল, সফট পিটের মতো ব্রাইট কিন্তু কুল শেড—এ ধরনের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

দিনের মেকআপ

* হালকা রঙের ফাউন্ডেশন বা ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার গালের উপরের অংশকে হাইলাইট করতে ব্যবহার করুন। হালকা গোলাপি রং ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। আর তৈলাক্ত ত্বকে হালকা ও ওয়াটারপ্রুফ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

* চুলে খুব বেশি সাজের দরকার নেই। সাধারণত যেভাবে আঁচড়িয়ে রাখেন, সেভাবেই রাখুন।

* লম্বা চুলের অর্ধেকটা কোঁকড়ানো করুন এবং চুল খোলা রাখুন। দেখতে ভালো লাগবে।

* হালকা রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। মোহনীয় দেখানোর জন্য।

* ঠোঁটে ও গালে হালকা গোলাপি রঙের ব্লাশঅন বেছে নিন।

* সোনালি রঙের আইশ্যাডো চোখের পাতার ওপরের অংশে লাগান। খুব ভালো করে মিলিয়ে নিন। চিরাচরিত আইলাইনারের বদলে সিলভার ক্রেয়ান দিয়ে আউটলাইন করুন।

* লম্বা চুল খোলা রাখলে ভালো লাগবে দেখতে। আবার সামনের দিকের চুলগুলো সামান্য কোঁকড়ানো করতে পারেন। কিছুটা কপাল ঢাকা থাকবে।

* চোখের উপরে সোনালি ও রুপালি আইশ্যাডো দিলে আর অন্য কোনো রঙের আইশ্যাডো দেওয়ার দরকার নেই। শুধুমাত্র মাসকারা ব্যবহার করুন।

ঠোঁটে গ্লস ব্যবহার করুন

* চুলের এক রকম কাটের বদলে, বেছে নিতে পারেন বাউন্সি কার্লস।

* উজ্জ্বল রঙের নেল কালার ব্যবহার করতে পারেন। দেখতে খুব ভালো লাগবে।

* টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যদি আপনি ত্বকে গমরঙা গ্লো চান।

* চোখে বাদামি রঙের কাজল দিয়ে এঁকে দিন।

* বাদামি রঙের নেলপলিশ ব্যবহার করতে পারেন।

* ঠোঁটের মেকআপের জন্য, হালকা গোলাপি, হালকা বাদামি রঙের লিপস্টিক বেছে নিন।

রাতের মেকআপ

* রাতের মেকআপের ক্ষেত্রে স্মোকি আইজ সবচেয়ে ভালো মানায়। আইশ্যাডো দেওয়ার পর, কালো রঙের গাঢ় করে আইলাইনার উপরে লাগান। আর নিচে কালো রঙের কাজল পরুন। ইচ্ছা করলে গ্লিটার দেওয়া আইশ্যাডো বেছে নিতে পারেন। ব্রাশ দিয়ে চোখের কোণের আইশ্যাডো ভালো করে মিলিয়ে দিন। এরপর ভ্রুয়ের নিচের অংশে হাইলাইটার লাগিয়ে দিন।

* চুল সামান্য কোঁকড়ানো করে নিন। প্রাকৃতিকভাবেই যদি চুল কোঁকড়ানো হয়ে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। চুলগুলোকে একটু উঁচু করে তুলে খোঁপার মতো বেঁধে নিন। আবার খুব টেনে বাঁধবেন না, এতে করে কপাল চওড়া দেখাতে পারে।

* হালকা ব্রাউন রংয়ের ব্লাশার লাগিয়ে চিক হাইলাইট করুন। গাঢ় রঙের ব্লাশার বেছে নিন সন্ধ্যা বা রাতের সময়ের জন্য। পাউডার ব্লাশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম ব্লাশার ভালো। রাউন্ড ব্রাশ ব্যবহার করুন পাউডার ব্লাশ লাগানোর জন্য।

* ড্রেসের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিকের রং বেছে নিন। শাইনের জন্য লিপগ্লসও লাগাতে পারেন।

* নিত্যনতুন চুলের সাজ বদলাতে পারেন। সাইড ব্যাংস মন্দ হবে না। আবার সাইড লেয়ার কাটও করতে পারেন।

* চোখ হাইলাইট করতে এখন খুবই চলছে দুই কিংবা তিন ধরনের রঙের আইশ্যাডোর ব্যবহার। আইশ্যাডো রঙের ক্ষেত্রে ব্রোঞ্জ ও গোল্ড ব্যবহার করুন।

* গাঢ় বেগুনি রঙের নেলপলিশ বেছে নিন।

* সুন্দর করে চুল আঁচড়িয়ে পেছনের দিকে ব্যাক ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখতে পারেন।

* চোখের নিচের অংশে ও ওপরের অংশে ঘন করে কাজল লাগান। কাজল বাইরের দিকে বের করে চোখে লাগান।

* ক্যাজুয়াল লুক পূর্ণ করতে অ্যাসিড পিংক রঙের গ্লস ব্যবহার করুন।

* চুল খুব ভালো করে আঁচড়িয়ে নিন। এরপর হাই পনিটেল করুন। এটি দেখতে খুবই ভালো লাগবে।

* চোখের উপরের ও নিচের পাতায় ঘন করে কালো আইলাইনার লাগান।

* অরেঞ্জ রঙের লিপগ্লস লাগান। দেখতে উজ্জ্বল লাগবে।

খুঁত ঢাকতে মেকআপ

* কনসিলার বা ব্লেমিশ কভার আপস্টিক, মুখের দাগ অথবা ভাঁজ ঢাকতে ব্যবহার করুন।

* আপনার ত্বকের গাঢ় দাগ বা খুঁতের জায়গা ঢাকতে চাইলে ত্বকের রঙের চেয়ে দু-এক শেড হালকা রঙের কনসিলার বা কারেক্টিভ ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

* আঙুলের ডগায় নিয়ে হালকা করে দাগের ওপর লাগান। তারপর ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন।

* ফাউন্ডেশন দেওয়ার পর অতিরিক্ত মেকআপ শুষে নিতে টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন।

* কমপ্যাক্ট লুস পাউডার লাগান এবং কয়েক মিনিট পর ব্রাশ করে নিন। এরপর লিপস্টিক, ব্লাশার আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। আপনার সাজ এখন সম্পূর্ণ।

ঘরে বসেই সহজ মেকআপ

মেকআপের কিছু প্রাথমিক নিয়ম জানা থাকলে ঘরে বসেই মেকআপ করতে পারেন আপনিও। এ জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো প্যানস্টিক, ডাস্ট পাউডার, প্যানকেক, পাফ ও ফোম, ব্লাশন, কয়েক রকম আইশ্যাডো, মাশকারা, লিপস্টিক ও গ্লস, বিভিন্ন রকম চোখের, গালের ও ঠোঁটের ব্রাশ। প্যানকেক ও ডাস্ট পাউডার ত্বকের রং অনুযায়ী বাছাই করবেন। ফর্সারা গোলাপি, শ্যামলারা বাদামি আর কালোরা গাঢ় রং বেছে নেবেন।
মেকআপের আগে চাই ত্বকের যত্ন। ত্বক শুষ্ক হলে মুখ ধুয়ে হালকা করে তরল ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন। ত্বক তৈলাক্ত বা মিশ্র হলে টোনার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলেই চলবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে বরফ বেঁধে মুখে ঘষে নেবেন।

আগে প্রথমে আঙুলের ডগায় প্যানস্টিক নিয়ে মুখের কালো দাগ ঢেকে দিতে হবে। এরপর পাফের সাহায্যে পুরো মুখে ডাস্ট পাউডার লাগাতে হবে ও পানি স্প্রে করতে হবে হালকাভাবে। আঙুলের সাহায্যে চেপে পাউডার মুখে বসিয়ে নিতে হবে। পাউডার বসে গেলে ভেজা ফোমের সাহায্যে প্যানকেক লাগিয়ে নিন। প্রথমে টি জোন, অর্থাত্ কপাল, নাক ও চিবুকে লাগাতে হবে। তারপর আঙুলের সাহায্যে মুখের অন্যান্য অংশে পুরোপুরি মেশাতে হবে। হাতেও প্যানকেক লাগাতে হবে, যাতে ত্বকের রঙে বৈসাদৃশ্য দেখা না যায়। হালকা ফেসপাউডার বুলিয়ে গালের ভাঁজে ব্লাশনের পরশ দিন। তৈরি হয়ে গেল মেকআপের বেজ।

মেকআপের কিছু ভুলভ্রান্তি কাটাতে

* শরীরের রং অনুযায়ী সাবধানে ফাউন্ডেশন বেছে নিন। ভুল করে শেডের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে শুধু যে মেকআপ অস্বাভাবিক লাগে তাই নয়, আপনার মুখের অন্য কোনো দাগ থাকলে তা আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ফাউন্ডেশনের শেড বাছাই করার সময় অল্প একটু নিজের গালে আর চোয়ালের কাছে লাগিয়ে প্রাকৃতিক আলোয় দেখে নিন, কেমন লাগছে।

* ফাউন্ডেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব ঘন বা মোটা ধরনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। বেছে নিন আপনার ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই কোনো হালকা লিক্যুইড ফাউন্ডেশন। ময়শ্চারাইজার লাগানোর পর সেটা মেকআপ স্পঞ্জ দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

* আপনার মুখের ব্রণ, দাগ বা ডার্ক সার্কল ঢাকার জন্য একগাদা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। ওই কাজটা কনসিলার দিয়ে করা উচিত।

* ত্বকে ফাউন্ডেশন লাগানোর পর খুব ভালো করে ব্লেন্ড করতে ভুলবেন না। আর শুধু ফাউন্ডেশনই নয়, আই শ্যাডোর সঙ্গে আই লাইনার, লিপ লাইনারের সঙ্গে লিপস্টিক যেন ভালোভাবে মিশে যায়।

* ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিমের আগে ফেসপাউডার বা ফাউন্ডেশন লাগাবেন না।

ঋতুভেদে সৌন্দর্য


                                        ঋতুভেদে সৌন্দর্য

 

 

সৌন্দর্য ও রূপ সচেতন নারী পুরুষ সকলেই চান তার সৌন্দর্য স্থায়ী হোক। অর্থাৎ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার সৌন্দর্য যাতে নষ্ট না হয়। যে কারণে তারা চান এমনভাবে রূপচর্চা করতে যা তার আসল সৌন্দর্য ধরে রাখবে এবং তার সৌন্দর্যে কোন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে না। এ কারণে তার সুন্দর মুখে ব্রণ উঠলে, চোখের নিচে কালো দাগ পড়লে, ঠোঁটের কোণে ঘাঁ হলে, ঘন কালো লম্বা চুল ঝরতে শুরু করলে তার ভাবনার যেন অন্ত থাকে না। তখন রূপচর্চার জন্য কেবল কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী আরও বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে। তখন দরকার রূপচর্চার এমন সামগ্রী যা ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে মুক্ত। তবে রূপচর্চার জন্য সব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সেক্ষেত্রে দিনেরাতে রূপচর্চার যেমন পার্থক্য হবে তেমনি ঋতুভেদে ও উপলক্ষ্য গুলোতেও রূপচর্চার তারতম্য হবে। খুব চমৎকার পোশাকের সাথে যেমন স্যান্ডেল মানানসই নয়, কোন উপলক্ষ্যে সাধারণ পোশাক যেমন দেখতে খারাপ লাগে তেমনি রুপচর্চায় কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী ক্ষতিকারক হলেও হারবাল এবং কেমিক্যাল উপাদানের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার আপনার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপাদান ও কেমিক্যাল প্রসাধনীর এমন ব্যবহার করতে হবে যাতে আপনার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সৌন্দর্যে কোন ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে ।

ত্বক: ঋতুভিত্তিক ত্বকের নানা সমস্যা হতে পারে। সেকারণে ত্বকের জন্য দরকার বাড়তি যত্ন। যেহেতু গ্রীষ্ম ও বর্ষা পাশাপাশি দুইটি ঋতু এবং এই দুই ঋতুতেই ত্বকের উপর সহজেই ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে। ত্বক তখন অনেকটা রুক্ষ ও অনুজ্জ্বল হতে পারে এবং ত্বকে র‌্যাশ ও ব্রণের প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এই ঋতু গুলোতে ত্বকের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। এই সময়ে এমনভাবে ত্বকের যত্ন প্রয়োজন যা ত্বককে উজ্জ্বল করবে এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনী, প্রকৃতিক উপাদান, খাবার সবদিকের বিবেচনা করতে হবে। সবদিকের প্রতি সামঞ্জস্য পূর্ণ সচেতনতা ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতি থেকে ত্বককে মুক্ত রাখবে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাতে ত্বকের যত্নের কিছু টিপস্‌ দেয়া হল:

গ্রীষ্মে ত্বকের যত্ন:
১. গরমে শুষ্ক ত্বকের জন্য রূপচর্চা একান্ত জরুরী। ত্বক তৈলাক্ত হলে শসা বাটা ও মশুরী ডাল বাটা দুটো পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেললে তৈলাক্ত ভাব কেটে যাবে। তবে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

২. লাউয়ের রস ও তরমুজের রস বরফ করে মুখে ঘষুন। এতে ত্বক মোলায়েম ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তবে ত্বকে ব্রণের সমস্যা থাকলে কখনও বরফ ঘষবেন না। তাহলে ব্রণ ও ব্রণের দাগ মুখে বসে যাবে।

৩. রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে কমলার খোসা বেটে মুখে ১০ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

৪. সপ্তাহে দু’দিন কাঁচা হলুদ, মশুরীর ডাল, দুধ বা দুধের সর একসাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

৫. পানিতে কয়েক ফোটা গোলাপজল মিশিয়ে দিনে দু’বার গোসল করতে পারলে শরীরটা ফুরফুরে থাকে।

এই গরমে মেকআপের প্রতিও আপনাকে সচেতন হতে হবে । অতিরিক্ত মেকআপের ফলে ত্বকে নানা সমস্যা হতে পারে । তাই মেকআপ ও অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

১. রোদে বাহিরে বের হবার সময় অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে । সানস্ক্রিনের এসপিএফ ৩০ হওয়া ভালো । তবে সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর এসপিএফ অবশ্যই ১৫ হতে হবে। এসময়ে ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

২. গ্রীষ্মে হালকা মেকাআপ করা ভাল। অতিরিক্ত মেকআপের ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে । মেকআপ তোলার সময় অবশ্যই ভেজা টিস্যু দিয়ে ঘষে ঘষে তুলতে হবে।

৩. দাগহীন সুন্দর ত্বকে ফাউন্ডেশন এর পরিবর্তে ফ্রি ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। তবে ফউন্ডেশন লুজ পাউডারের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। রক্ত চন্দন ময়েশ্চারাইজার সান প্রটেক্টিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।

৪. জামা কাপড়ে পারফিউম লাগাবেন না, কারণ তাতে ত্বকে দাগ পড়ে যেতে পারে। এছাড়াও ঘামের উপর সরাসরি পারফিউম ব্যবহারের ফলে উগ্র গন্ধ বের হতে পারে ।

৬. কবজি, ঘাড়, গোড়ালি, বগল এবং হাটুর পিছনে পারফিউম লাগালে আপনি স্বাচ্ছন্ধ বোধ করবেন।
৭. ন্যাচারাল কুলিং ইফেক্ট রয়েছে বলে গোলাপ চন্দন সমৃদ্ধ শাওয়ার জেল, বডি শ্যাম্পু ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ঘাম থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
তবে গরমে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার্থে কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। রোদে বের হলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে বের হতে হবে। সিল্কের ড্রেস গরমে ব্যবহার করা উচিৎ নয়। কারণ সিল্কের কাপড় ঘাম বের হতে বাধা দেয়। তাই এ সময় হালকা রং এর সুতি পোশাক ব্যবহার করা উত্তম। কারণ সুতি পোশাক ঘাম শুষে নেয়। গরমে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই সানগ্লাস নিতে ভুলবেন না । এ সময় খাবারের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলে অবশ্যই ভাজা পোড়া খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। যতটা সম্ভব পানি ও পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে ফল ও শাক সবজি রাখতে হবে। এসময় চোখের সুন্দর রাখতে অল্প মাসকারা ব্যবহার করতে হবে। ঠোঁটে হালকা লিপ লাইনার, কোরাল বা পিংক গ্লসি ব্যবহার করা যায়। যতটা সম্ভব হালকা মেকআপ করা ভাল। পায়ের ত্বক সুন্দর রাখতে চটি জুতা ব্যবহার করতে পারেন। লেদার ব্যাগের পরিবর্তে জুট, কটন ফ্যাবিক্স বা বেতের ব্যাগ ব্যবহার করলে আপনার সাজ পূর্নাঙ্গ হবে।বর্ষায় ত্বকের যত্ন:
১. বর্ষার সময় ত্বকে একটা ম্যাড়ম্যাড়ে ভাব দেখা যায়। বিবর্ণ ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পেঁপের ক্বাথ ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে মাখতে হবে।

২. বর্ষাকালে রোদ কম থাকলেও সূর্যরশ্মি প্রতিফলনের জন্য এ সময় অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

৩. মুখে ব্রণ হলে নিমপাতা ও চন্দনবাটা লাগাতে হবে। যদি এ সময় ব্রণের দাগ বসে যায় তবে চন্দনবাটা, হলুদ ও লবঙ্গবাটা, জয়ফল গুঁড়োর সঙ্গে আপেল ও কমলালেবুর রস মিশিয়ে লাগাতে হবে এবং ২০ মিনিট পরে কাঁচা দুধ তুলোয় মিশিয়ে মুছে নিতে হবে।

৪. গোসলের সময় গোলাপের পাপড়ি ও কাঁচা হলুদবাটা, বেসন ও দই এক সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। গোলাপের সুগন্ধ সারাটাদিন আপনাকে ঘিরে থাকবে এবং মন মেজাজ ফুরফুরে রাখবে।

৫. স্কিন টনিক হিসেবে ফুটন্ত পানিতে জুঁই এবং গোলাপের পাপড়ি সেদ্ধ করে ঠান্ডা করে
ফ্রিজে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন মত তুলোয় ভিজিয়ে মুখে লাগাতে হবে।

৬. বর্ষায় ময়েশ্চারাইজার হিসেবে দুধের সর ও গোলাপের পাপড়িবাটা ব্যবহার করা ভাল।

৭. বর্ষায় ক্লিনজিংয়ের জন্য ময়দা ও দুধের সর মুখে, গলা ও হাতে লাগিয়ে আধ শুকানোর পর আস্তে আস্তে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। হালকা গরম পানিতে কর্পূর মিশিয়ে তাতে তোয়ালে ভিজিয়ে মুখ, গলা, ঘাড় ও কানের পাশ পরিষ্কার করতে হবে।
বর্ষাকালে খাবারের সতর্কতার ক্ষেত্রে অবশ্যই তেল মশলাযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে ফল, শাক-সবজি, পানি এবং পানি জাতীয় খাবার রাখতে হবে। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর থাকবে। এছাড়াও এ ঋতুতে বার বার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া ভাল। তবে বর্ষাকালে ত্বকের বাড়তি যত্ন হিসেবে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার টিপস্‌ গুলো একটু সতর্কভাবে ও নিয়ম মত পালন করাই উত্তম।

চুল: চুল বাঙালি নারীর সৌন্দর্যের আসল পরিচয়। ঘন কালো লম্বা চুল ও আগা গোড়া সমান চুল সকলের পছন্দ। সুন্দর চুলের জন্য, চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে এবং চুলকে ঝলমলে করতে যেমন ভাবনার অন্ত থাকে না; তেমনি সুন্দর চুল ঝরতে শুরু করলে, চুলের আগা ফাটতে শুরু করলে, চুলে লালচে ভাব দেখা দিলে, চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে গেলে অথবা চুল খুব পাতলা হলে চুলের আলাদা যত্নের প্রয়োজন হয়। সবদিক বিবেচনায় চুলের যত্ন করতে হবে। চুলের যত্নে খাবারের ব্যাপারে যেমন সতর্ক হতে হবে, তেমনি ঋতু বেঁধে চুলের যত্নেরও অনেক পার্থক্য আসবে।

গ্রীষ্মে চুলের যত্ন:
১. সপ্তাহে দু’দিন অবশ্যই চুলে শ্যাম্পু করতে হবে। শুষ্ক চুলে অবশ্যই কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

২. চুলে শ্যাম্পুর করার ১ ঘণ্টা আগে হালকা গরম নারিকেল তেল চুলের গোড়ায় ম্যাসেজ করতে হবে।

৩. চুল ঝরঝরে করতে মাথায় লেবুর রস ও পিঁয়াজের রস একসাথে মেখে এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪. চুল সুন্দর, নির্মল ও ঝরঝরে রাখতে মাসে অন্তত দু’বার মেহিদী বাটা, টক দই, ডিম, এক চামচ অলিভ অয়েল এক সাথে পেস্ট করে চুলে মেখে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে হবে।

৫. ভেজাচুলে বাইরে গেলে চুলে ময়লা বসে যেতে পারে। তাই বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই চুল শুকিয়ে নিতে হবে। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে আঁচড়াতে হবে তাহলে চুলে ময়লা বসতে পারবে না।

গ্রীষ্মকালে চুলের যত্নের জন্য অবশ্যই প্রোটিন, ভিটামিন ও স্নেহ পদার্থ জাতীয় খাবার খেতে হবে। তবে রোদে বের হতে হলে অবশ্যই ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে হবে । চুলে যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে সে জন্য খুব আটোভাবে স্কার্ফ ব্যবহার করা ঠিক নয়। চুলে কখনই ময়লা বসতে দেয়া যাবে না। কারণ ময়লা বসে গেলেই চুলে খুসকি হবে। তাই চুল সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তবে চুলে অতিরিক্ত পরিমাণে কোন সমস্যা দেখা দিলে বা চুল ঝরতে শুরু করলে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বর্ষায় চুলের যত্ন:
১. এ সময় ঘন ঘন শ্যাম্পু করা যাবে না । সপ্তাহে দু’দিন শ্যাম্পু করতে হবে।

২. তৈলাক্ত চুলে লাইট কনডিশনার এবং শুষ্ক চুলে ডিপ ময়শ্চারাইজিং কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

৩.চুলে খুসকি থাকলে অ্যান্টিড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ও নিয়মিত কনডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

৪.এসময় চুল রুক্ষ হয়ে পড়লে স্ট্রবেরি ও বেলের ক্বাথ, মধু ও ডাবের পানি মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করতে হবে।

৫. জবা ফুল ,দূর্বা ঘাস, নারিকেল তেল ও নিম পাতাবাটা এ সময়ে চুলে লাগানো খুবই ভালো।

৬.চুল ঝরঝরে ও খুসকিমুক্ত রাখতে মেথিদানা ও জিরে দুধে ভিজিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। পরদিন বেটে এতে নারিকেল তেল জবা ফুল, তুলসীপাতা ও বেল পাতাবাটা মেশাতে হবে এবং চুলে লাগাতে হবে।

৭.চুল খুব পাতলা হলে শ্যাম্পুর সঙ্গে ডিম ও পাউডার জিলেটিন মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।

৮.চুলের মসৃণতা ফিরে পেতে হলে কচি আমলকীর রস ক্যাস্টর অয়েলে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রাখতে হবে এবং পরে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করতে হবে।

৯.এছাড়াও এ সময় চুলে নারকেল তেল নিশিন্দাপাতা, আনারস, তুলসীপাতা ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে লাগানো ভাল।

১০. চুলের রুক্ষতা কাটাতে ডিম, টকদই, পাকা পেঁপের ক্বাথ, মধু, নারিকেল তেল, কেশুত পাতা ও আদার রস, আমলা, শিকাকাই পাউডার ও পাতি লেবুর বীজ এক সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পুরো চুলে লাগিয়ে ৪০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।

বর্ষাকালে চুলের যত্নের জন্য আরও কিছু বিষয়ের প্রতি সতর্ক হতে হবে। বর্ষাকালে বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই ছাতা নিয়ে বের হতে হবে। চুল কখনই ভেজা রাখা যাবে না। কারণ চুল ভেজা রাখলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুলে ফাঙ্গাশ পড়তে পারে। ভেজা চুল কখনও আচড়াবেন না। ফ্যানের বাতাস কিংবা চুল শুকানোর মেশিন দিয়ে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। ঘাম জমে মাথায় ফোড়া বা ফুসকুড়ি হলে প্রতিদিন গোসলের আগে বিচিছাড়া বেলের শাঁস চটকে মাথার তালুতে লাগাতে হবে। এভাবে এক ঘন্টা রেখে রিঠা ও আমলা ভেজানো পানিতে শ্যাম্পু করতে হবে ।

নখ: হাতের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে নখে। নখ সুন্দর করে সাইজ করা থাকলে এবং পরিষ্কার থাকলে হাত দেখতে ভাল লাগে। এছড়াও সুন্দর হাতে সুন্দর করে নখ সাইজ করা থাকলে এবং ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে নেল পলিশ দেয়া থাকলে হাত আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। নখ সুন্দর রাখতে হাত ও পা উভয় নখের কথা ভাবতে হবে। তাই হাতের নখের পরিচর্যা করতে মাসে ৩/৪ বার বাড়িতে বা পার্লারে ম্যানিকিউর করতে হবে এবং পায়ের নখের জন্য মাসে ২/৩ বার পেডিকিউর করতে হবে।

এছাড়াও নখের বাড়তি যত্নের জন্য :

১. দিনে দু’বার সাবান পানিতে কবজি থেকে নখ পর্যন্ত হাত ধোয়া এবং পায়ের নখ থেকে পাতা পর্যন্ত ধোয়া উচিত।

২. হাত-পা ধোয়ার পর তেল, ক্রিম বা লোশন মাখতে হবে।

৩. হাত-পা সব সময় শুকনো রাখতে হবে।

৪. নখের যত্নের জন্য অতিরিক্ত পানি, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম, ক্ষার জাতীয় পানি খুব ক্ষতিকারক।

৫. নখের যত্নের জন্য নেল এনামেল ব্যবহার খুবই উপকারী। কারণ এগুলো নখের উজ্জ্বলতার সাথে সাথে নখকে মোটা করে, ফলে নখ খুব সহজেই ভেঙ্গে যায় না।

বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা

                                  বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা


একজন পূর্ণাঙ্গ রমণীর ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বাণু নির্গত হয়। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রজনন বয়স ধরা হলেও ৩৫ বছরের পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রজনন বয়সের শেষ দিকে ডিম্বাণু নিঃসরণ প্রতি মাসে না-ও হতে পারে। প্রজনন বয়সের মধ্যে প্রতি মাসেই একজন মহিলার ২৮ থেকে ৩৫ দিন ব্যবধানে ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। ঋতুস্রাব মহিলাদের ডিম্বাণু নিঃসরণের একটি প্রমাণ। যদিও কখনো কখনো ডিম্বাণু নিঃসরণ ছাড়াও ঋতুস্রাব হতে পারে। ২৮-৩০ দিনের ব্যবধানে যাদের ঋতুস্রাব হয় তাদের সাধারণত ১৩তম, ১৪তম ও ১৫তম দিনগুলোর কোনো একসময় ডিম্বাণু নির্গত হয়। এ সময়কে বলে প্রজনন সময়। এ সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মিলন হলে স্বামীর শুক্রাণু ও স্ত্রীর ডিম্বাণু ডিম্বনালির প্রায় শেষ প্রান্তে, অম্বুলা নামক জায়গায় মিলিত হলে নিষেক সংঘটিত হয়। নিষেকের ফলে যেটি তৈরি হয় সেটিকে ভ্রূণ বলে। এ ভ্রূণ চক্রবৃদ্ধি হারে বিভক্ত হতে থাকে এবং ডিম্বনালি অতিক্রম করে নিষেকের সপ্তম দিন জরায়ুতে প্রবেশ করে এবং জরায়ুগাত্রে দৃঢ় হয়ে স্থাপিত হয়। পরে এখানেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ২৮০ দিন পরে পূর্ণাঙ্গ মানবশিশু ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু কোনো দম্পতি এক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছাড়া একই সাথে বসবাস ও মিলনের পরও যদি সন্তান ধারণ না করে থাকেন, তাকে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বলে। এটি হতে পারে প্রাথমিক যাদের কখনোই গর্ভসঞ্চারণ হয়নি অথবা মাধ্যমিক যাদের আগে গর্ভসঞ্চারণের পর এখন আর গর্ভসঞ্চারণ হচ্ছে না। সাধারণত ৮০ শতাংশ দম্পতির চেষ্টার প্রথম বছরের মধ্যেই সন্তান হয়ে থাকে। ১০ শতাংশ দম্পতির দ্বিতীয় বছরের মধ্যে হয়ে থাকে। বাকি ১০ শতাংশের কোনো না কোনো কারণে সন্তান ধারণে অসুবিধা হয়ে থাকে এবং তাদের জন্যই সেপশাল চিকিৎসা দরকার। এই না হওয়ার পেছনে স্বামী-স্ত্রী দুজনের যে-কেউই কারণ হতে পারেন। আবার সমিমলিত অসুবিধার কারণেও হতে পারে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু স্বামী দায়ী, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে শুধু স্ত্রী দায়ী এবং ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই দায়ী।

বন্ধ্যাত্বের কারণ
সন্তান ধারণে ব্যর্থতার কারণ অগণিত। কারণ যা-ই হোক, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা বিদ্যমান। তবে কারণগুলো নিরূপণের পদ্ধতি ও চিকিৎসাপদ্ধতি সহজতর ও স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ থেকে শুরু করে জটিলতম ও বহুল ব্যয়সাপেক্ষ পর্যন্ত হতে পারে।

ডিম্বাণু তৈরি হওয়া (অনেক কারণে ডিম্বাণু তৈরি হয় না)।
ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা কার্যক্রম না থাকলে।
এন্ডোমেট্রিওসিস নামক ডিজিজের ফলে।
জরায়ুতে টিউমার হলে।
জরায়ুগ্রীবার শুক্রাণুর প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ভাব থাকলে।

পুরুষদের মধ্যে মুখ্য কারণ হলো
শুক্রাণুর পরিমাণ কম থাকলে।
শুক্রাণুর আকৃতি স্বাভাবিক না থাকলে।
শুক্রাণুর চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে।
শুক্রাণু অনুপস্থিত থাকলে।
মিলনে স্বামীর অক্ষমতা থাকলে।

এ ছাড়া সমিমলিত সমস্যার কারণে না হতে পারে এবং কখনো কখনো উভয়ের কোনো কারণ ছাড়াই সন্তান না হতে পারে। যখন কোনো নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়া যায়, তখন তাকে ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যাত্ব বলে।

চিকিৎসা
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। মানবজাতির স্বাভাবিক প্রজননের হার অন্যান্য প্রজাতির চেয়ে অনেক কম। জনসংখ্যা বিসেফারণের দেশে বাস করে এ কথা অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি এটিই যে ১০০ জন দম্পতি যাদের কোথাও কোনো সমস্যা নেই তারা তাদের প্রজনন সময় একত্রে বসবাস করলেও মাসে গর্ভসঞ্চার হবে মাত্র ২০ জনের। স্ত্রীর বয়স বাড়ার সাথে সাথে এ হার আরো কমতে থাকে। সন্তান ধারণে ব্যর্থ হলে স্বামী-স্ত্রীর কোথাও না কোথাও সমস্যা বিদ্যমান থাকা স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা করে প্রজননের হার স্বাভাবিক হারের চেয়ে কম বই বেশি করা দুরূহ ব্যাপার। আর সে জন্যই বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা হলো ধাপে ধাপে চিকিৎসা। বিভিন্ন ধাপের কোনো এক ধাপে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়। এই ধাপে ধাপে চিকিৎসার জন্যই চিকিৎসার সময় দীর্ঘায়িত হয়। অন্য কোনো অসুস্থতার মতো চট করে এটির সমাধান দেখা যায় না। তবে অবশ্যই স্ত্রীর বয়সের দিকে এবং বন্ধ্যাত্বের কারণের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বন্ধ্যাত্বের স্বপ্ন পূরণে টেস্টটিউব বেবি
বর্তমানে অনেক দম্পতি টেস্টটিউব বেবির মাধ্যমে সন্তান গ্রহণ করছেন। টেস্টটিউব পদ্ধতিতে দুটি ভাগ আছে। একটি আইভিএফ (IVF), অন্যটি ইকসি (ICSI)। আইভিএফে স্বামী-স্ত্রীর শুক্রাণু ও ডিম্বাণুকে প্রকৃতিগত পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে একটি গ্লাসের পাত্রে মিলিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ পাত্রটি একটি বিশেষ ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং সেখানেই নিষেক হয়ে ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। এ পদ্ধতিতে একাধিক ডিম্বাণু তৈরি করা সম্ভব বলে একাধিক ভ্রূণ তৈরি হয়ে থাকে। তা থেকে সবচেয়ে ভালো মানসম্পন্ন তিনটি ভ্রূণকে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, যা পরে স্বাভাবিক গর্ভসঞ্চালনের মতোই বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশু হয়। পদ্ধতিটির প্রসারিত নাম ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। ভিট্রো একটি ল্যাটিন শব্দ যার ইংরেজি পরিভাষা গ্লাস। এই গ্লাসের পাত্রে নিষেক হয় বলেই এর নামকরণ হয়েছে টেস্টটিউব বেবি। ইকসি টেস্টটিউব পদ্ধতির আর একটি ভাগ। এ পদ্ধতিতে ডিম্বাণু সংগ্রহের পর একটি ডিম্বাণুর ভেতরে একটি শুক্রাণুকে ইনজেক্ট করে দেয়া হয়।

আইভিএফে একটি পাত্রে একটি ডিম্বাণুর সাথে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ শুক্রাণু ছেড়ে দেয়া হয়। তা থেকে একটি শুক্রাণু নিজ ক্ষমতাবলে ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করে। যখন শুক্রাণুর পরিমাণ অতি মাত্রায় কম থাকে কিংবা মোটেই থাকে না, তখন ইকসি করা হয়। বীর্যে শুক্রাণু অনুপস্থিত থাকলে অণ্ডকোষ থেকে ছোট্ট অপারেশনের মাধ্যমে শুক্রাণু পরিপক্ব কিংবা অপরিপক্ব পর্যায়ে বের করে একটি বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। পরে ইনকিউবেটরে রাখা হয় এবং বাকি পর্যায় আইভিএফের মতোই।

সজল ত্বক, সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য

                                       সজল ত্বক, সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য


জল। নিখরচা পানীয়। আছে সর্বত্র। তবু যথেষ্ট পাই না আমরা এই পানীয়। তবু দিনের শেষে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে এই পানীয়…কিন্তু যথেষ্ট আমরা পাচ্ছি কি? সারা দিন যদি কাপ কাপ চা ও কফি পান করি এবং জল পান করি সামান্য, কেউ আবার সুখের দোলায় মদ পানও করেন, শেষে পানিশূন্যতাই তো ঘটে শরীরে। আর শরীর পানিশূন্য হলে দেহের সৌন্দর্য থাকে কি?
দেহের বৃহত্তম অংশজুড়েই তো পানি, আর জন্মের সময় বস্তুত ৮৫ শতাংশই তো থাকে পানি। পুষ্টি উপকরণের পরিপাক ও শোষণ, খনিজ পদার্থের সমতা রক্ষা, দেহকোষের সুষ্ঠু কাজকর্ম পানি ছাড়া চলে না। খাদ্য ছাড়া বেশ কিছুদিন বাঁচা যায়, কিন্তু পানি ছাড়া অসম্ভব। তাই বেঁচে থাকতে হলে পানি চাই।
তবে পানির যে দেহের সৌন্দর্যে বড় অবদান আছে, তা কি ভেবেছি কখনো? কোনো শীতল শীতের দিনে বলেছি, ‘আমার ত্বকটি পিপাসিত হয়ে আছে আর্দ্রতার জন্য, একটু ভেজার জন্য…’ তাহলে তো পানির কদর বুঝেছি।
সজল শরীর মানে সজল, সুস্থ, সজীব ত্বক। ত্বক শুষ্ক হলে বড় বিপর্যয়—ত্বক পানিশূন্য হলে কেমন যেন শুকিয়ে যায়, হয়ে যায় মলিন, অনুজ্জ্বল ও নির্জীব।
সজল ত্বকে আছে জীবন, প্রাণবন্ত সে ত্বক, ভেজা ও উদ্দীপনাময়।

কতটুকু জল চাই আমাদের?
আমরা অনেকেই মনে করি, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি চাই তবে নানা কারণে এতেও হতে পারে তারতম্য যদি
বসবাস করতে হয় সমুদ্রসীমা থেকে অনেক উঁচু কোনো স্থানে।
উড়াল দিতে হয় যদি উড়োজাহাজে।
জ্বর হয়।
উষ্ণ অথচ ভেজা আবহাওয়ায় যদি কাজ করতে হয়।
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় যদি কাজ করতে হয় কর্মজীবীদের (নির্মাণকাজ বা আউটডোর কোনো কাজে)।
বয়স: বৃদ্ধ ও শিশুরা পানিশূন্যতায় বেশি কাতর হয়।
কঠোর অ্যাথলেটিক কাজে।
যদি ওপরের কোনো একটি উপাদান যুক্ত না থাকে জীবনে, তাহলে দিনে ৯-১৩ কাপ জলই যথেষ্ট। তবে স্বাস্থ্যকর অনেক খাদ্য রয়েছে, যেগুলো সজল, সরস জলে-রসে ভরা। লেটুস, শসা, তরমুজ, বাঙি, পানিফল, ব্রকোলি, পালংশাক, বাঁধাকপি এগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশ হলো পানি। এসব গ্রহণে দেহের সৌন্দর্য বাড়ে, পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ।

আরও জল পাই কোথায়? কী করে জল পাই?
সঙ্গে থাক না একটি পানির বোতল সারাক্ষণ। ইতিমধ্যে কোলা, কোমল পানীয়ে অভ্যাসমুক্ত হতে থাকি। তাজা শসা, স্ট্রবেরি, পানিফল, আমলকী ও কমলা খাই। পানি পান করি সর্বদা। মূত্র হবে ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ। যদি কদলি বর্ণ হয় প্রস্রাবের, তাহলে পানির বোতলে পানি ভরি বারবার। আর চুমুকে চুমুকে পান করব পানি—সৌন্দর্যের জন্য, স্বাস্থ্যের জন্য।

ফিটনেস : অ্যারোবিক এক্সারসাইজ

ফিটনেস : অ্যারোবিক এক্সারসাইজ


যে কোনো বিষয়য়েই অনুশীলন একটি পজেটিভ বিষয়। আর শরীর-মন ভালো রাখতে শরীরেও অনুশীলন প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প কিছু নেই। অনেক সময়ই হয়তো বাইরে জিমে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বাড়িতে বসেই করার মতো কিছু অনুশীলন বা এক্সারসাইজ নিয়ে আজকের আলোচনা।

অ্যারোবিক শব্দের অর্থ ‘উইথ অক্সিজেন’ অ্যারোবিক ওয়ার্ক-আউটের ফলে শরীরে, অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে, হার্ট, ফুসফুস, ব্লাড ভেসেল অথাৎ সমগ্র কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ভালো রাখে। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ মূলত শরীরের বড় মাংসগুলোকে টার্গেট করে। নিয়মিত এক্সারসাইজে হার্টবিটে রক্ত পাম্প করতে পারে। ফলে শরীরের টিসুতে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছে সহজেই। এতে ফিটনেস লেভেল বেড়ে যায়। আর তার জন্য হাঁপানি ছাড়াই অনেকক্ষণ এক্সারসাইজ করতে পারেন।

অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করতে পারেন যারা

অ্যারোবিক এক্সারসাইজ মোটামুটি সবাই করতে পারেন। তবে যাদের বয়স ৪০-এর ঊর্ধ্বে তারা এক্সারসাইজের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, হাই ব্লাডপ্রেশার বা যে কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন কিংবা ওবেসিটিতে ভোগার কারণে দীর্ঘদিন ইন-অ্যাক্টিভ ছিলেন তারাও এক্সারসাইজের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন। অবশ্য দেখা গিয়েছে যে, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, আর্থ্রাইটিস, প্রিমেসস্টুয়াল সিন্ড্রোম বা হার্টের রোগে ভুগছেন তারা অ্যারোবিক এক্সারসাইজে অনেক উপকৃত হয়েছেন।

কয়েকটি অ্যারোবিক এক্সারসাইজ

প্রচুর ধরনের অ্যাক্টিভিটি এই ওয়ার্ক-আউটের মধ্যে পড়ে। তবে সবচেয়ে সাদামাটা কিংবা সহজ অ্যারোবিক হলো হাঁটা। এ ছাড়া সাইকেল চালানো, দৌড়ানো, স্কিপিং, রোলার স্কেটিং, বাস্কেটবল খেলাও এর অন্তর্ভুক্ত।

হাঁটা: যারা সদ্য এক্সারসাইজ শুরু করেছেন বা যাদের মূল লক্ষ্য অতিরিক্ত ওজন কমানো, তাদের ক্ষেত্রে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। তবে এক্ষেত্রে ধৈর্র্য ধরতে হবে। আস্তে আস্তে হাঁটার সঙ্গে জগিংও আরম্ভ করতে হবে। জগিং হাঁটার চাইতে বেশি ইনটেন্স তাই তাড়াতাড়ি ক্যালরি বার্ন করতে সাহায্য করে।

সাইকেল চালানো: (আউটডোর বা স্টেশনারি) যারা অ্যাক্টিভ থাকতে পছন্দ করেন বা খেলাধুলায় রুচি রাখেন, তাদের জন্য সাইকেল চালানো খুব ভালো এক্সসারাইজ।

জগিং বা দৌড়ানো: যারা বাড়ির বাইরে এক্সারসাইজ করতে পছন্দ করেন তারা জগিং করতে পারেন নিশ্চিন্তে। জগিং করার জন্য ভোর বা সন্ধ্যাবেলা সবচাইতে ভালো সময়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, অ্যারোবিক এক্সারসাইজের মধ্যে জগিং সবচেয়ে ভালো এক্সারসাইজ। কেননা এতে অতিরিক্ত মেদ কমানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
Photo: ফিটনেস : অ্যারোবিক এক্সারসাইজ

যে কোনো বিষয়য়েই অনুশীলন একটি পজেটিভ বিষয়। আর শরীর-মন ভালো রাখতে শরীরেও অনুশীলন প্রয়োজন। সুস্থ থাকতে খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প কিছু নেই। অনেক সময়ই হয়তো বাইরে জিমে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বাড়িতে বসেই করার মতো কিছু অনুশীলন বা এক্সারসাইজ নিয়ে আজকের আলোচনা।

অ্যারোবিক শব্দের অর্থ ‘উইথ অক্সিজেন’ অ্যারোবিক ওয়ার্ক-আউটের ফলে শরীরে, অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে, হার্ট, ফুসফুস, ব্লাড ভেসেল অথাৎ সমগ্র কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম ভালো রাখে। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ মূলত শরীরের বড় মাংসগুলোকে টার্গেট করে। নিয়মিত এক্সারসাইজে হার্টবিটে রক্ত পাম্প করতে পারে। ফলে শরীরের টিসুতে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছে সহজেই। এতে ফিটনেস লেভেল বেড়ে যায়। আর তার জন্য হাঁপানি ছাড়াই অনেকক্ষণ এক্সারসাইজ করতে পারেন।

অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করতে পারেন যারা

অ্যারোবিক এক্সারসাইজ মোটামুটি সবাই করতে পারেন। তবে যাদের বয়স ৪০-এর ঊর্ধ্বে তারা এক্সারসাইজের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ, হাই ব্লাডপ্রেশার বা যে কোনো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন কিংবা ওবেসিটিতে ভোগার কারণে দীর্ঘদিন ইন-অ্যাক্টিভ ছিলেন তারাও এক্সারসাইজের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন। অবশ্য দেখা গিয়েছে যে, ডায়াবেটিস, ওবেসিটি, আর্থ্রাইটিস, প্রিমেসস্টুয়াল সিন্ড্রোম বা হার্টের রোগে ভুগছেন তারা অ্যারোবিক এক্সারসাইজে অনেক উপকৃত হয়েছেন।

কয়েকটি অ্যারোবিক এক্সারসাইজ

প্রচুর ধরনের অ্যাক্টিভিটি এই ওয়ার্ক-আউটের মধ্যে পড়ে। তবে সবচেয়ে সাদামাটা কিংবা সহজ অ্যারোবিক হলো হাঁটা। এ ছাড়া সাইকেল চালানো, দৌড়ানো, স্কিপিং, রোলার স্কেটিং, বাস্কেটবল খেলাও এর অন্তর্ভুক্ত।

হাঁটা: যারা সদ্য এক্সারসাইজ শুরু করেছেন বা যাদের মূল লক্ষ্য অতিরিক্ত ওজন কমানো, তাদের ক্ষেত্রে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই। তবে এক্ষেত্রে ধৈর্র্য ধরতে হবে। আস্তে আস্তে হাঁটার সঙ্গে জগিংও আরম্ভ করতে হবে। জগিং হাঁটার চাইতে বেশি ইনটেন্স তাই তাড়াতাড়ি ক্যালরি বার্ন করতে সাহায্য করে।

সাইকেল চালানো: (আউটডোর বা স্টেশনারি) যারা অ্যাক্টিভ থাকতে পছন্দ করেন বা খেলাধুলায় রুচি রাখেন, তাদের জন্য সাইকেল চালানো খুব ভালো এক্সসারাইজ।

জগিং বা দৌড়ানো: যারা বাড়ির বাইরে এক্সারসাইজ করতে পছন্দ করেন তারা জগিং করতে পারেন নিশ্চিন্তে। জগিং করার জন্য ভোর বা সন্ধ্যাবেলা সবচাইতে ভালো সময়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, অ্যারোবিক এক্সারসাইজের মধ্যে জগিং সবচেয়ে ভালো এক্সারসাইজ। কেননা এতে অতিরিক্ত মেদ কমানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, জুন ০১, ২০১০

জীবনসঙ্গীকে যে কথা বলতেই হবে

জীবনসঙ্গীকে যে কথা বলতেই হবে


দুটি মানুষের কথোপকথনের মাধ্যমেই একটি সম্পর্কের সূচনা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেউ একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। জীবনভরই দুজনের মধ্যে চলে কথার বিনিময়। তবে কিছু কিছু কথা আছে যেগুলো নিয়ে নারীরা লুকোচুরি করেন। ওই কথাগুলো তিক্ত হলেও আপনার জীবনসঙ্গীকে বলতেই হবে।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন সাতটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেগুলো আনন্দময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।


এ মুহূর্তে শারীরিক সংসর্গ নয়


আপনি চাইছেন না, অথচ আপনার সঙ্গী আপনাকে খুব কাছে পেতে চাইছেন। তাঁর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না। আপনি শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হতে না চাইলে সঙ্গীকে সরাসরি না বলে দিন। আপনার অনিচ্ছার কথাটি জানাতে রাখঢাক করবেন না।


আপনার প্রত্যাশা


আপনার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, আপনি কি মনের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু চান? তাঁর সঙ্গটাকে কেমন অনুভব করছেন? এসব বিষয় অবশ্যই তাঁকে জানাতে হবে।


অন্য কাউকে ভালোবাসা


আপনি একজনের সঙ্গে চার বছর ধরে সংসার করছেন। এরই মধ্যে অন্য একজনকে আপনার মনে ধরেছে। কিন্তু এটি লুকিয়ে রাখবেন না। প্রথম মানুষটিকে জানিয়ে দিন। অন্যথায় আপনি একই সঙ্গে দুজন মানুষের সঙ্গে অন্যায় করবেন।


বেশি খরচ করে ফেলেছি


এখানে-সেখানে সামান্য অর্থ খরচের বিষয়টি না জানালেও চলে। তবে কখনো কখনো গয়না, সম্পত্তি বা অন্য কোনো খাতে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি প্রিয় মানুষটিকে জানিয়ে দেন।


মানসিকভাবে বিপর্যস্ত


আপনার জীবনসঙ্গীর চাচি বা খালা আপনার পোশাক-আশাক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন কিংবা আপনার দেবরের প্রেমিকা বিষয়টি ফাঁস করে দিলেন। এমন বিষয় নিয়ে আপনি প্রিয়জনের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলবেন। আপনি তাঁর কাছে জানতে চাইবেন কীভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়।


পছন্দ, অপছন্দ এবং আরও কিছু


আপনার পছন্দ-অপছন্দ, পছন্দের খাবার, অতীতের গভীর সম্পর্ক কোনো কিছু বর্তমান সঙ্গীর কাছে আড়াল করবেন না।


আমার জন্য কিছুটা সময়


কিছু সময় আছে, যখন আপনি একাকীই কাটাতে চান। এ বিষয়ে সঙ্গীকে স্পষ্ট করে বলে দিন। এতে করে ওই মুহূর্তে আপনি সংঘাত এড়াতে পারবেন। কিন্তু আপনার একান্ত মুহূর্ত সম্বন্ধে কাছের মানুষটি যদি না জানে, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সুত্রঃ ইন্টারনেট পত্রিকা
Photo: জীবনসঙ্গীকে যে কথা বলতেই হবে

দুটি মানুষের কথোপকথনের মাধ্যমেই একটি সম্পর্কের সূচনা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেউ একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। জীবনভরই দুজনের মধ্যে চলে কথার বিনিময়। তবে কিছু কিছু কথা আছে যেগুলো নিয়ে নারীরা লুকোচুরি করেন। ওই কথাগুলো তিক্ত হলেও আপনার জীবনসঙ্গীকে বলতেই হবে।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন সাতটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেগুলো আনন্দময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।


এ মুহূর্তে শারীরিক সংসর্গ নয়


আপনি চাইছেন না, অথচ আপনার সঙ্গী আপনাকে খুব কাছে পেতে চাইছেন। তাঁর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না। আপনি শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হতে না চাইলে সঙ্গীকে সরাসরি না বলে দিন। আপনার অনিচ্ছার কথাটি জানাতে রাখঢাক করবেন না।


আপনার প্রত্যাশা


আপনার সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, আপনি কি মনের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু চান? তাঁর সঙ্গটাকে কেমন অনুভব করছেন? এসব বিষয় অবশ্যই তাঁকে জানাতে হবে।


অন্য কাউকে ভালোবাসা


আপনি একজনের সঙ্গে চার বছর ধরে সংসার করছেন। এরই মধ্যে অন্য একজনকে আপনার মনে ধরেছে। কিন্তু এটি লুকিয়ে রাখবেন না। প্রথম মানুষটিকে জানিয়ে দিন। অন্যথায় আপনি একই সঙ্গে দুজন মানুষের সঙ্গে অন্যায় করবেন।


বেশি খরচ করে ফেলেছি


এখানে-সেখানে সামান্য অর্থ খরচের বিষয়টি না জানালেও চলে। তবে কখনো কখনো গয়না, সম্পত্তি বা অন্য কোনো খাতে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি প্রিয় মানুষটিকে জানিয়ে দেন।


মানসিকভাবে বিপর্যস্ত


আপনার জীবনসঙ্গীর চাচি বা খালা আপনার পোশাক-আশাক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন কিংবা আপনার দেবরের প্রেমিকা বিষয়টি ফাঁস করে দিলেন। এমন বিষয় নিয়ে আপনি প্রিয়জনের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলবেন। আপনি তাঁর কাছে জানতে চাইবেন কীভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়।


পছন্দ, অপছন্দ এবং আরও কিছু


আপনার পছন্দ-অপছন্দ, পছন্দের খাবার, অতীতের গভীর সম্পর্ক কোনো কিছু বর্তমান সঙ্গীর কাছে আড়াল করবেন না।


আমার জন্য কিছুটা সময়


কিছু সময় আছে, যখন আপনি একাকীই কাটাতে চান। এ বিষয়ে সঙ্গীকে স্পষ্ট করে বলে দিন। এতে করে ওই মুহূর্তে আপনি সংঘাত এড়াতে পারবেন। কিন্তু আপনার একান্ত মুহূর্ত সম্বন্ধে কাছের মানুষটি যদি না জানে, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সুত্রঃ ইন্টারনেট পত্রিকা

ব্রা এবং স্তনের কাপ সাইজের মাপ নির্ধারণ

ব্রা এবং স্তনের কাপ সাইজের মাপ নির্ধারণ


ধাপ#১: ব্যাণ্ডের সাইজের মাপ নির্ধারণ
নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন, ফুসফুস থেকে সমস্ত বাতাস বের করে দিন। এবার মেঝের সাথে সমান্তরাল করে বুকের চারদিকে ফিতা দিয়ে বক্ষোদেশের নিচে অর্থাৎ যেখানে ব্রা শেষ হয়ে গেছে, সেখানে মেপে নিন।
দশমিক সংখ্যা এলে তার কাছাকাছি পূর্ণ সংখ্যা ধরবেন। যেমন, ২৮.৫ ইঞ্চি বা এর কম হলে ২৮ ইঞ্চি ধরবেন। ২৮.৬ ইঞ্চি বা এর বেশি হলে ২৯ ধরবেন।

সংখ্যাটা জোড় হলে, তার সাথে ৪ যোগ করবেন।
সংখ্যাটা বিজোড় হলে, তার সাথে ৫ যোগ করবেন।

ধাপ#২: কাপের সাইজের মাপ নির্ধারণ
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, হাত দুদিকে ছেড়ে দিয়ে, ব্রার উপরে যেখানে সর্বোচ্চ উঁচু, সেখানের মাপ নিন। খেয়াল রাখবেন যাতে মাপার সময় ফিটা মেঝের সমান্তরাল থাকে, কোথাও উঁচু-নিচু যেন না হয়।
দশমিক সংখ্যা এলে তার কাছাকাছি পূর্ণ সংখ্যা ধরবেন। যেমন, ৩৪.৫ ইঞ্চি বা এর কম হলে ৩৪ ইঞ্চি ধরবেন। ৩৪.৬ ইঞ্চি বা এর বেশি হলে ৩৫ ধরবেন।

ধাপ#৩: ব্রার সাইজের মাপ নির্ধারণ

কাপের সাইজের মাপ (ধাপ#২) থেকে ব্যাণ্ডের সাইজের মাপ (ধাপ#১) বিয়োগ দিন। এই সংখ্যাটা দিয়েই পেয়ে যাবে কাপের সাইজ। নিচের টেবিলে দেখে নিন।

উদাহরণ:
স্টেপ#১: ব্যাণ্ডের সাইজের মাপ (২৮+৪=) ৩২
স্টেপ#২: কাপের সাইজের মাপ ৩৫
স্টেপ#৩: ৩৫-৩২=৩, অর্থাৎ “সি”

তাহলে, স্তন বা ব্রার সাইজ হবে “৩২সি”

=====================
পার্থক্য: কাপ সাইজ:
০”-১/২” AA
১/২”- ১” A
২” B
৩” C
৪” D
৫” DD or E
৬” DDD or F
৭” G
৮” H
৯” I
১০” J

=====================
A = ছোট
B = মাঝারি
C = বড়
D = বেশি বড়
E = অনেক বেশি বড়


 নারীর বক্ষ বন্ধনী যেভাবে প্রচলিত হলো
For details........
 https://www.facebook.com/topsecretbd?fref=photo

শারীরিক মিলন নারীর ভালোবাসা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক!

শারীরিক মিলন নারীর ভালোবাসা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক!


বিবাহিত নারীর ভালোবাসা প্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক শারীরিক মিলন৷ আবার শারীরিক প্রয়োজনীয়তার একপ্রকার বহিঃপ্রকাশ সেক্স্যুয়াল অ্যাক্টিভিটি৷ কিন্তু আপনি জানেন কি শারীরিক চাহিদা বা ভালোবাসা প্রকাশের দিক ছাড়াও এর অনেক গুণ আছে যার ফলে আপনার ব্যক্তিজীবন আনন্দে ভরপুর হয়ে উঠতে পারে—

ত্বক ভালো থাকে : শারীরিক মিলনের সময় সারা শরীরে একপ্রকার ম্যাসাজ চলে তার দ্বারা রিল্যাক্সেশনের ফলে শরীরে কোন প্রকার দাগ থাকে না বা তা ধীরে ধীরে লুপ্ত হতে থাকে৷

সৌন্দর্য্য বাড়ে : শারীরিক মিলন কালে হরমোন নিঃসরনের ফলে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বেড়ে যাওয়াতে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপরে৷ তার ফলে সৌন্দর্য্য বেড়ে ওঠে৷ আপনার সারা শরীরের মাদকতা আপনার মধ্যে গ্লো আনে৷ শারীরিক মিলন কালে মহিলাদের শরীর থেকে এস্ট্রোজেন হরমোন নিংসৃত হতে থাকে, যার দ্বারা তাদের চুল এবং ত্বক আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে৷

পিরিয়ডের সময় ব্যাথা কম হয় : যে সব মহিলাদের সেক্স্যুয়াল লাইফ খুব ভালো হয় তাদের পিরিয়ডের ক্ষেত্রে সমস্যা কম হয়৷ সাধারণতঃ পিরিয়ডের সময় মহিলাদের খুব বেশী ব্যাথা হযে থাকে৷ যাদের সেক্স্যুয়াল লাইফে কোন প্রকার অসুবিধা থাকে না তাদের এই সময়ে ব্যাথার অনুভুতি কম হয়৷ আর শরীরিক মিলনের দিক ঠিক থাকলে পিরিয়ডের আগে মহিলাদের মধ্যে অনেক সময় যে সমস্যা দেখা যায় তাও থাকে না৷

কার্ডিওভাস্কুলার এর ক্ষেত্রে উন্নতি : মহিলারা শারীরিক মিলনের সময় উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের হার্টের গতি বেড়ে যায়, ফলে তাদের কার্ডিওভাস্কুলার এর সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে৷

মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি : মানসিক প্রশান্তি আনার দিক থেকে নিয়মিত শারীরিক মিলনের অভ্যাস সবথেকে ভালো৷ কারণ শারীরিক মিলনের ফলে মন উত্ফুল্ল থাকে ফলে মানসিক অশান্তি কম হয়৷

ওজন কমে : শারীরিক মিলনের ফলে প্রচুর পরিমান ক্যালোরি কম হয় তার ফলে ব্যক্তির ওজন কম হয়৷ নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনের ফলে পেটের স্থূলতা কম হয়, আর মাংসপেশীতে জড়তা কম দেখা যায়৷

বিস্বস্ত তা বাড়ে : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক মিলনের বোঝা পড়া ঠিক থাকলে তারা একে ওপরকে কখনও ঠকায় না৷ তাদের ঘনিষ্ঠতা তাদের এমন কাজ করতে দেয় না৷

কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে : শারীরিক মিলনের সময় হরমোন নিঃসরণ হয় তাই মন শান্ত থাকে আর নিরন্তর কাজের ক্ষমতা বাড়তে থাকে৷ নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তির যৌবন অনেক দিন পর্যন্ত বর্তমান থাকে৷ এর মাধ্যমে ফিটনেস লেবেল বাড়ে৷ শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তি সারাদিন স্ফুর্তি অনুভব করে৷ সারাদিনের কাজে এই স্ফুর্তির প্রভাব দেখা যায়৷ এর দ্বারা সারাদিনের ক্লান্তি থেকে এবং নানা রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷ -ইন্টারনেট (Dr.Toriqul Islam Tareq)
Photo: শারীরিক মিলন নারীর ভালোবাসা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক!

বিবাহিত নারীর ভালোবাসা প্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক শারীরিক মিলন৷ আবার শারীরিক প্রয়োজনীয়তার একপ্রকার বহিঃপ্রকাশ সেক্স্যুয়াল অ্যাক্টিভিটি৷ কিন্তু আপনি জানেন কি শারীরিক চাহিদা বা ভালোবাসা প্রকাশের দিক ছাড়াও এর অনেক গুণ আছে যার ফলে আপনার ব্যক্তিজীবন আনন্দে ভরপুর হয়ে উঠতে পারে—

ত্বক ভালো থাকে : শারীরিক মিলনের সময় সারা শরীরে একপ্রকার ম্যাসাজ চলে তার দ্বারা রিল্যাক্সেশনের ফলে শরীরে কোন প্রকার দাগ থাকে না বা তা ধীরে ধীরে লুপ্ত হতে থাকে৷

সৌন্দর্য্য বাড়ে : শারীরিক মিলন কালে হরমোন নিঃসরনের ফলে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বেড়ে যাওয়াতে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপরে৷ তার ফলে সৌন্দর্য্য বেড়ে ওঠে৷ আপনার সারা শরীরের মাদকতা আপনার মধ্যে গ্লো আনে৷ শারীরিক মিলন কালে মহিলাদের শরীর থেকে এস্ট্রোজেন হরমোন নিংসৃত হতে থাকে, যার দ্বারা তাদের চুল এবং ত্বক আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে৷

পিরিয়ডের সময় ব্যাথা কম হয় : যে সব মহিলাদের সেক্স্যুয়াল লাইফ খুব ভালো হয় তাদের পিরিয়ডের ক্ষেত্রে সমস্যা কম হয়৷ সাধারণতঃ পিরিয়ডের সময় মহিলাদের খুব বেশী ব্যাথা হযে থাকে৷ যাদের সেক্স্যুয়াল লাইফে কোন প্রকার অসুবিধা থাকে না তাদের এই সময়ে ব্যাথার অনুভুতি কম হয়৷ আর শরীরিক মিলনের দিক ঠিক থাকলে পিরিয়ডের আগে মহিলাদের মধ্যে অনেক সময় যে সমস্যা দেখা যায় তাও থাকে না৷

কার্ডিওভাস্কুলার এর ক্ষেত্রে উন্নতি : মহিলারা শারীরিক মিলনের সময় উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের হার্টের গতি বেড়ে যায়, ফলে তাদের কার্ডিওভাস্কুলার এর সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে৷

মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি : মানসিক প্রশান্তি আনার দিক থেকে নিয়মিত শারীরিক মিলনের অভ্যাস সবথেকে ভালো৷ কারণ শারীরিক মিলনের ফলে মন উত্ফুল্ল থাকে ফলে মানসিক অশান্তি কম হয়৷

ওজন কমে : শারীরিক মিলনের ফলে প্রচুর পরিমান ক্যালোরি কম হয় তার ফলে ব্যক্তির ওজন কম হয়৷ নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনের ফলে পেটের স্থূলতা কম হয়, আর মাংসপেশীতে জড়তা কম দেখা যায়৷

বিস্বস্ত তা বাড়ে : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক মিলনের বোঝা পড়া ঠিক থাকলে তারা একে ওপরকে কখনও ঠকায় না৷ তাদের ঘনিষ্ঠতা তাদের এমন কাজ করতে দেয় না৷

কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে : শারীরিক মিলনের সময় হরমোন নিঃসরণ হয় তাই মন শান্ত থাকে আর নিরন্তর কাজের ক্ষমতা বাড়তে থাকে৷ নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তির যৌবন অনেক দিন পর্যন্ত বর্তমান থাকে৷ এর মাধ্যমে ফিটনেস লেবেল বাড়ে৷ শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তি সারাদিন স্ফুর্তি অনুভব করে৷ সারাদিনের কাজে এই স্ফুর্তির প্রভাব দেখা যায়৷ এর দ্বারা সারাদিনের ক্লান্তি থেকে এবং নানা রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷ -ইন্টারনেট (Dr.Toriqul Islam Tareq)

গর্ভধারনে সমস্য? মা হতে দেরী হচ্ছে? আপনার জন্যই কিছু টিপস্ এন্ড ট্রিকস।

গর্ভধারনে সমস্য? মা হতে দেরী হচ্ছে? আপনার জন্যই কিছু টিপস্ এন্ড ট্রিকস।


টিপস ০১: তাড়াতাড়ি মা হবার জন্য সপ্তাহে অন্তত: তিনবার যৌন মিলন করুন।



সঠিক ভাবে মা হবার জন্য নিয়মিত যৌন মিলন অত্যন্ত জরুরী। স্বামী-স্ত্রী সাধারনত হিসেব করতে থাকেন আনুমানিক কখন ডিম্ব নিঃস্বরন (ওভুলেশান) হবে? সেজন্য তারা অন্য সময় যৌন মিলন থেকে বিরত থাকেন। এটা সত্যযে ওভুলেশান ছাড়া কনসিভ করা সম্ভব নয় - তবে যেহেতু নারীর ওভুলেশান সব সময় তাদের অনুমান করা সময়ে নাও হতে পারে তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন স্বামী-স্ত্রীর মিলন গর্ভধারনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।





টপিস ০২: গর্ভধারন নিশ্চিত করতে ডিম্বস্ফোটন ভবিষ্যদ্বাণী কিট অথবা নিষেক পরীক্ষন কিট ব্যবহার করুন।



Ovulation prediction kit হচ্ছে একধরনের স্টি্রপ যা শরীরের তাপমাত্রা এবং প্রস্রাবে Luteinizing হরমোনের লেভেল পরীক্ষা করে ডিম্বনিস্বরনের সময় সম্পর্কে ধারনা দিতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে ওভুলেশান চার্ট অথবা অন্য সব হিসাব-নিকাশ কিছুটা কনফিউজিং। তাই ovulation prediction kit দিয়ে ওভুলেশানের সময় আগে থেকে জেনে মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া "ক্লিয়ার ব্লু ইজি মনিটর" জাতীয় নিষেক পরীক্ষন যন্ত্র দিয়েও গর্ভধারনের সম্ভাবনার একটি চিত্র পাওয়া যায়। নিষেক পরীক্ষন যন্ত্রও ওভুলেশান প্রিডিকশন কিটের মত লুটিইনজিং হরমোনের পরিবর্তন সহ অন্যন্য আনুষাঙ্গিক হরমোনাল পরিবর্তনের বিবেচনায় গর্ভধারনের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে।





টিপস ০৩: গর্ভধারনের জন্য ডিম্বনিস্বঃরনের পুর্বে যৌন মিলন করুন - পরে নয়।



অনেকসময় স্বামী-স্ত্রী ডিম্ব নিষেক এর জন্য মিলনের সঠিক সময় নিয়ে সন্দেহে ভোগেন। প্রতি মাসে আপনার খুব একটা ছোট সময় আছে গর্ভধারনের। নারীর ডিম্বনিঃস্বরনের পর আনুমানিক ২৪ ঘন্টা তা জীবিত থাকতে পারে। অন্যদিকে পুরুষের শুক্রানু নারীর যৌনাঙ্গে প্রায় পাঁচ দিনের মত জীবিত থাকতে পারে। সেই কারনে ওভুলেশানের ২/৩ দিন আগে যৌন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ওভুলেশানের দিনের জন্য অপেক্ষা না করাই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে।





টিপস ০৪: শুধুমাত্র ঋজচক্র ক্যালেন্ডারে নির্ভর করবেন না।



আপনাদের অনেকে হয়তো শুনে আসছেন মাসিক ঋজচক্রের ১৪ তম দিন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটি আসলে যাদের মাসিক চক্র ২৮ দিনের তাদের হিসেবে এ কথাটির প্রচলন হয়েছে। এটি দ্বারা অনুমান করা হয় মাত্র - কখন ডিম্বনিস্বঃরন হতে পারে। তবে এটি একদম ১০০ ভাগ নির্ভুল পদ্ধতি নয়। অনেক নারী ঠিক ১৪ তম দিনে ওভুলেট করেন না। কিন্তু আপনি যদি ওভুলেশান প্রিডিকশান কিট অথবা ডিম্বনিঃস্বরনের কোন আলামত লক্ষ্য করে মিলন করেন তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।





টিপস ০৫: গর্ভধারনের চেষ্টার আগে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।



নিশ্চিত করুন আপনি সন্তান ধারনের জন্য স্বাস্থ্যগত ভাবে ৈতরি আছেন। শাররীক ইনফেকশান, এসটিডি তথা যৌন বাহিত রোগ অথবা দুর্বল স্বাস্থ্য আপনার গর্ভধারনে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।





টিপস ০৬: যখন বাচ্চা নেবার চিন্তা করছেন তখন ধুমপান, মদ্যপান এবং যাচ্ছেতাই ভাবে মেডিসিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।



এটি একটি সাধারন জ্ঞানের কথা কিন্তু অনেক নারী ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদির বহাল রেখে গর্ভধারন করেতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হল উপরোক্ত সব বদঅভ্যাস ডিম্ব নিষেকে প্রভাব পেলতে পারে এবং এটি গর্ভের সন্তানের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর।





টিপস ০৭: গর্ভধারনের জন্য আনন্দদায়ক যৌন মিলন খুবই জরুরী।



বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন কোন যুগল সন্তান নিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হন তখন তারা যৌন মিলনকে একপ্রকার ডিউটি মনে করতে শুরু করেন এবং মিলনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন।রোমান্টিক কোন প্ল‍্যান করুন অথবা সম্পর্ক স্পাইস-আপ করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। কারন আপনি মিলনে কি রকম অনুভূতি পাচ্ছেন তার উপরও গর্ভধারনের সম্ভাবনা নির্ভর করে। গবেষনায় দেখা গেছে মিলনকালে নারীর পুর্নতৃপ্তি সন্তানধারনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। পুর্নতৃপ্তির ফলে নারীর জরায়ুর দিকে শুক্রানু প্রাকিতিক ভাবে সঞ্চালিত হয় এবং পুরুষের তৃপ্তি বীর্যে শুক্রানুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে।





টিপস ০৮: কিছু যৌন আসন শুক্রানুকে বেশি সময় যোনীতে রাখতে সহায়তা করে।



মিসনারী আসন হচ্ছে সবছে ভাল আসন যখন আপনি গর্ভধারনের চেষ্টা করছেন। যখন আপনি সন্তান নেবার পরিকল্পনা করছেন তখন ঐসকল আসন থেকে বিরত থাকুন যেখানে নারী পুরুষের উপর আরোহন করে। কারন মধ্যকর্ষন শক্তির প্রভাবে শুক্রানু লিক হয়ে বেরিয়ে পড়তে পারে। কিংবা মিলনকালে নারীর কোমরের নিচে একটি বালিশ দিয়ে রাখতে পারেন যাতে তার যোনীতে বেশি সময় শুক্রানু অবস্থান করার সম্ভাবনা বাড়ায়।





টিপস ০৯: গর্ভবতী হবার জন্য কঠিন কোন চেষ্টা করতে হয়না।



অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ে গর্ভধারন বিষয়টি ঘটে যায়। অনেকে আবার লম্বা সময় চেষ্টা করেও সফল হননা। যদি আপনি চেষ্টা করার এক বছরের মধ্যে সন্তান সম্ভবা না হন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হন।
Photo: গর্ভধারনে সমস্য? মা হতে দেরী হচ্ছে? আপনার জন্যই কিছু টিপস্ এন্ড ট্রিকস।

টিপস ০১: তাড়াতাড়ি মা হবার জন্য সপ্তাহে অন্তত: তিনবার যৌন মিলন করুন।

 

সঠিক ভাবে মা হবার জন্য নিয়মিত যৌন মিলন অত্যন্ত জরুরী। স্বামী-স্ত্রী সাধারনত হিসেব করতে থাকেন আনুমানিক কখন ডিম্ব নিঃস্বরন (ওভুলেশান) হবে? সেজন্য তারা অন্য সময় যৌন মিলন থেকে বিরত থাকেন। এটা সত্যযে ওভুলেশান ছাড়া কনসিভ করা সম্ভব নয় - তবে যেহেতু নারীর ওভুলেশান সব সময় তাদের অনুমান করা সময়ে নাও হতে পারে তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন স্বামী-স্ত্রীর মিলন গর্ভধারনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।

 

 

টপিস ০২: গর্ভধারন নিশ্চিত করতে ডিম্বস্ফোটন ভবিষ্যদ্বাণী কিট অথবা নিষেক পরীক্ষন কিট ব্যবহার করুন।

 

Ovulation prediction kit হচ্ছে একধরনের স্টি্রপ যা শরীরের তাপমাত্রা এবং প্রস্রাবে Luteinizing হরমোনের লেভেল পরীক্ষা করে ডিম্বনিস্বরনের সময় সম্পর্কে ধারনা দিতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রে ওভুলেশান চার্ট অথবা অন্য সব হিসাব-নিকাশ কিছুটা কনফিউজিং। তাই ovulation prediction kit দিয়ে ওভুলেশানের সময় আগে থেকে জেনে মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া "ক্লিয়ার ব্লু ইজি মনিটর" জাতীয় নিষেক পরীক্ষন যন্ত্র দিয়েও গর্ভধারনের সম্ভাবনার একটি চিত্র পাওয়া যায়। নিষেক পরীক্ষন যন্ত্রও ওভুলেশান প্রিডিকশন কিটের মত লুটিইনজিং হরমোনের পরিবর্তন সহ অন্যন্য আনুষাঙ্গিক হরমোনাল পরিবর্তনের বিবেচনায় গর্ভধারনের সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

 

 

টিপস ০৩: গর্ভধারনের জন্য ডিম্বনিস্বঃরনের পুর্বে যৌন মিলন করুন - পরে নয়।

 

অনেকসময় স্বামী-স্ত্রী ডিম্ব নিষেক এর জন্য মিলনের সঠিক সময় নিয়ে সন্দেহে ভোগেন। প্রতি মাসে আপনার খুব একটা ছোট সময় আছে গর্ভধারনের। নারীর ডিম্বনিঃস্বরনের পর আনুমানিক ২৪ ঘন্টা তা জীবিত থাকতে পারে। অন্যদিকে পুরুষের শুক্রানু নারীর যৌনাঙ্গে প্রায় পাঁচ দিনের মত জীবিত থাকতে পারে। সেই কারনে ওভুলেশানের ২/৩ দিন আগে যৌন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ওভুলেশানের দিনের জন্য অপেক্ষা না করাই বুদ্ধিমানের মত কাজ হবে।

 

 

টিপস ০৪: শুধুমাত্র ঋজচক্র ক্যালেন্ডারে নির্ভর করবেন না।

 

আপনাদের অনেকে হয়তো শুনে আসছেন মাসিক ঋজচক্রের ১৪ তম দিন মিলন করলে গর্ভধারনের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটি আসলে যাদের মাসিক চক্র ২৮ দিনের তাদের হিসেবে এ কথাটির প্রচলন হয়েছে। এটি দ্বারা অনুমান করা হয় মাত্র - কখন ডিম্বনিস্বঃরন হতে পারে। তবে এটি একদম ১০০ ভাগ নির্ভুল পদ্ধতি নয়। অনেক নারী ঠিক ১৪ তম দিনে ওভুলেট করেন না। কিন্তু আপনি যদি ওভুলেশান প্রিডিকশান কিট অথবা ডিম্বনিঃস্বরনের কোন আলামত লক্ষ্য করে মিলন করেন তাহলে ভাল ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

 

 

টিপস ০৫: গর্ভধারনের চেষ্টার আগে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

 

নিশ্চিত করুন আপনি সন্তান ধারনের জন্য স্বাস্থ্যগত ভাবে ৈতরি আছেন। শাররীক ইনফেকশান, এসটিডি তথা যৌন বাহিত রোগ অথবা দুর্বল স্বাস্থ্য আপনার গর্ভধারনে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। 

 

 

টিপস ০৬: যখন বাচ্চা নেবার চিন্তা করছেন তখন ধুমপান, মদ্যপান এবং যাচ্ছেতাই ভাবে মেডিসিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

 

এটি একটি সাধারন জ্ঞানের কথা কিন্তু অনেক নারী ধুমপান, মদ্যপান ইত্যাদির বহাল রেখে গর্ভধারন করেতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হল উপরোক্ত সব বদঅভ্যাস ডিম্ব নিষেকে প্রভাব পেলতে পারে এবং এটি গর্ভের সন্তানের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর।

 

 

টিপস ০৭: গর্ভধারনের জন্য আনন্দদায়ক যৌন মিলন খুবই জরুরী।

 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন কোন যুগল সন্তান নিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত হন তখন তারা যৌন মিলনকে একপ্রকার ডিউটি মনে করতে শুরু করেন এবং মিলনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন।রোমান্টিক কোন প্ল‍্যান করুন অথবা সম্পর্ক স্পাইস-আপ করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। কারন আপনি মিলনে কি রকম অনুভূতি পাচ্ছেন তার উপরও গর্ভধারনের সম্ভাবনা নির্ভর করে। গবেষনায় দেখা গেছে মিলনকালে নারীর পুর্নতৃপ্তি সন্তানধারনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। পুর্নতৃপ্তির ফলে নারীর জরায়ুর দিকে শুক্রানু প্রাকিতিক ভাবে সঞ্চালিত হয় এবং পুরুষের তৃপ্তি বীর্যে শুক্রানুর সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

 

 

টিপস ০৮: কিছু যৌন আসন শুক্রানুকে বেশি সময় যোনীতে রাখতে সহায়তা করে।

 

মিসনারী আসন হচ্ছে সবছে ভাল আসন যখন আপনি গর্ভধারনের চেষ্টা করছেন। যখন আপনি সন্তান নেবার পরিকল্পনা করছেন তখন ঐসকল আসন থেকে বিরত থাকুন যেখানে নারী পুরুষের উপর আরোহন করে। কারন মধ্যকর্ষন শক্তির প্রভাবে শুক্রানু লিক হয়ে বেরিয়ে পড়তে পারে। কিংবা মিলনকালে নারীর কোমরের নিচে একটি বালিশ দিয়ে রাখতে পারেন যাতে তার যোনীতে বেশি সময় শুক্রানু অবস্থান করার সম্ভাবনা বাড়ায়।

 

 

 টিপস ০৯: গর্ভবতী হবার জন্য কঠিন কোন চেষ্টা করতে হয়না।

 

অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ে গর্ভধারন বিষয়টি ঘটে যায়। অনেকে আবার লম্বা সময় চেষ্টা করেও সফল হননা। যদি আপনি চেষ্টা করার এক বছরের মধ্যে সন্তান সম্ভবা না হন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হন।

বিয়ে করার পূর্বে

বিয়ে করার পূর্বে


বিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব বন্ধন। প্রতিটি মানুষ বয়:সন্ধিক্ষণে এই অপূর্ব ও পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বন্ধনের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে অবিচ্ছেদ্য এক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এই সম্পর্কের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের ঔরসজাত হয়ে পৃথিবীর মুখ দেখে নতুন প্রজন্ম। আপাতদৃষ্টিতে বিয়ে দুটি মানুষের মধ্যে হলেও এর সাথে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে নতুন একটি পরিবার, নতুন একটি প্রজন্ম। তাদের নতুন পরিবারটি কেমন হবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রীর উপর। তাদের যদি কোনো ভালো গুণ থাকে তাহলে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তারা তাদের সেইসব ভালোগুণ দিয়ে গড়ে তুলবেন। আর যদি তাদের কোনো খারাপ গুণ থাকে তাহলে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আপনা আপনি সেইসব গুণ রপ্ত করে তাদের জীবন গড়ে তুলবে। তেমনিভাবে পিতা-মাতার যদি বিয়ের আগে কোনো মারাত্মক রোগ থাকে তাহলে বিয়ে পরবর্তী সময়ে সেই রোগের প্রভাব স্বামী, স্ত্রী ও পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। তাই বিয়ে করার আগে এই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এই বিষয়টি যদি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে নিরোগ ও স্বাস্থ্যবান।


প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের স্বাস্থ্যেই এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যা পরবর্তীতে সন্তানের ওপরও পড়ে। তাই বিয়ে করার পূর্বে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই বয়স ভালো করে যাচাই করে নেওয়া দরকার। মেয়েদের ক্ষেত্রে নিয়মিত মাসিক হওয়া, হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য সব ধরনের টিকা দেওয়া আছে কিনা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে বিড়ি-সিগারেট, মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা তা আগে থেকেই জেনে নেয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তা পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও এর কুফল পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। এছাড়া শারীরিক উচ্চতা, রক্তচাপ, ওজন এসব দিকও সম গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার।

বয়স:
বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। বেশি বয়সে বিয়ে করার ফলে ছেলেদের ইনফার্টিলিটি অথবা বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান মানসিক ও শারীরিক ত্রুটিসহ প্রতিবন্ধীও হওয়ার ঝুকি রয়েছে। ত্রিশ বছরের পর মেয়েদের প্রথম সন্তান নেওয়া খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই এসব দিক বিবেচনা করে বিয়ের আগে বয়সের দিকটা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে। কেননা এর সাথে আগামী প্রজন্মের ভাগ্যও জড়িত।

বয়সের দিক ভাবতে গিয়ে অতি অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। কম বয়সে মেয়েদের গর্ভধারণ মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। অল্প বয়সে সন্তান ধারণের ফলে আমাদের দেশে অনেক মেয়ের অকালমৃত্যু ঘটছে।

এছাড়া ছেলে-মেয়ের বয়সের পার্থক্যের দিকটিও সমানভাবে নজড় দিতে হবে। ছেলে ও মেয়ের বয়সের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে পরবর্তীতে সংসার জীবনে একে অপরের বোঝাপড়াটা ঠিকমতো হয় না। যার ফলে সংসারের নানা ধরনের অশান্তি লেগেই থাকে। তাই সবদিক বিবেচনা করে বিয়ের আগে এই বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বন্ধ্যাত্ব:
আমাদের দেশে অসংখ্য নারী ও পুরুষ বন্ধ্যাত্ব নামক এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হন। এনিয়ে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কারও রয়েছে। আদতে যৌন অক্ষমতা, অ্যাজোসপারমিয়া এবং সন্তান ধারণে অক্ষমতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বন্ধ্যাত্ব পুরুষ ও নারী উভয়েরই হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা পরবর্তীতে সংসার জীবনে নানা ধরনের অশান্তির সৃষ্টি করে। আমাদের বর্তমান সমাজ জীবনে বিয়ের আগে এই ধরনের কোনো পরীক্ষা করার ব্যবস্থা না থাকলে আপাতদৃষ্টিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

রক্তরোগ:
একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে রোগ জীবাণু ছড়ানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে রক্ত। এটির মাধ্যমে সহজেই রোগজীবাণু একাধিক দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিয়ের আগে নারী ও পুরুষ উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। সাধারণত যাদের রক্তে আরএইচ (RH) ফ্যাক্টর নেই তারা নেগেটিভ গ্রুপের রক্তধারী। যেমন- এ নেগেটিভ, এবি নেগেটিভ। পজিটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের সাথে যদি এই নেগেটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের বিয়ে হয় তাহলে সন্তান জন্মদানের সময় দুর্ঘটনার আশংকা সৃষ্টি হয়। যেমন- অকাল গর্ভপাত হওয়া, শিশুর মৃত্যু হওয়া, জন্মগ্রহণকারী শিশুর হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। এসব অনাহুত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজন্মগত রোগ:
রোগের জীবাণু বহনকারী পুরুষ ও মহিলার ঔরসজাত সন্তানও জন্মের সময় মায়ের গর্ভ থেকেই সেই রোগের জীবাণু নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে আসে। যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার মাঝে প্রকাশ পেতে থাকে। সাধারণত মা-বাবা দুজনের অথবা যে কোনো একজনের জীন থেকে সন্তান এই রোগের ধারক হন। বংশগত রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে – মৃগী, ডিপ্রেশন, কার্ডিওভাসকুলার ডিজেস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার যেমন – ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ডাযাবেটিস, আর্থাইট্রিস, গ্লুকোমা, ওবেসিটি, অস্টিওপোরেসিস, অ্যাজমা, মানসিক অসুস্থতা, প্রভৃতি।

সবক্ষেত্রে বংশগত রোগ শারীরিকভাবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে প্রকাশ হয় না সেসব রোগের জন্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই গোত্রের ছেলে-মেয়ের মধ্যে বিয়ে হলে বিয়ের আগে শারীরিক পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত রোগ দ্বারা সন্তানদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। যেমন – হিমোফেলিয়ার বা রক্ত জমাট বাধার সমস্যা, কালার ব্লাইন্ডনেস প্রভৃতি রোগ সাধারণত মায়েদের থেকে ছেলে সন্তানদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এসব রোগ দ্বারা কন্যা সন্তানদের প্রভাবিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ধরনের রোগ মহিলাদের মধ্যে পরিবাহিত হলেও তাদের নিজ দেহে তা প্রকাশ পায় না। পরবর্তীতে তা তার ছেলে সন্তানের দেহে প্রকাশ পায়। তাই বিয়ের পূর্বে রক্ত ও টিস্যু নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াই ভালো।

যৌন রোগ:
নারী বা পুরুষের পূর্বে কোনো যৌন রোগ থাকলে বিয়ের পর তাদের শারীরিক সম্পর্কের ফলে ঐই রোগের জীবাণু একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে মিশে যায়। সিফিলিস, গনোরিয়া, স্যানক্রয়েড, জেনিটাল হারপিস সহ মরনঘাতী এইডসও এই পক্রিয়ায় একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। পরবর্তীতে এসব রোগের প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। তাই বিয়ের পূর্বে এসকল বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সবশেষে পরীক্ষায় যাই ধরা পড়ুক সেটির উপর ভর করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। ডাক্তারের পরামর্শ মতো কীভাবে সেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করাই যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত। তাছাড়া আমাদের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় কতজন এই পদ্ধতি মেনে চলবেন তাও প্রশ্নাতীত। অনেকে উপরের কথাগুলো শুনে গালমন্দও করতে পারে। তবে উপরের কথাগুলো খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এর উপকারিতা ছাড়া কোনো অপকারিতা বোধহয় খুজে পাওয়া যাবে না।
Photo: বিয়ে করার পূর্বে 

বিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব বন্ধন। প্রতিটি মানুষ বয়:সন্ধিক্ষণে এই অপূর্ব ও পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বন্ধনের মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে অবিচ্ছেদ্য এক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এই সম্পর্কের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের ঔরসজাত হয়ে পৃথিবীর মুখ দেখে নতুন প্রজন্ম। আপাতদৃষ্টিতে বিয়ে দুটি মানুষের মধ্যে হলেও এর সাথে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাদের হাত ধরেই গড়ে ওঠে নতুন একটি পরিবার, নতুন একটি প্রজন্ম। তাদের নতুন পরিবারটি কেমন হবে তা পুরোপুরি নির্ভর করে স্বামী-স্ত্রীর উপর। তাদের যদি কোনো ভালো গুণ থাকে তাহলে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তারা তাদের সেইসব ভালোগুণ দিয়ে গড়ে তুলবেন। আর যদি তাদের কোনো খারাপ গুণ থাকে তাহলে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আপনা আপনি সেইসব গুণ রপ্ত করে তাদের জীবন গড়ে তুলবে। তেমনিভাবে পিতা-মাতার যদি বিয়ের আগে কোনো মারাত্মক রোগ থাকে তাহলে বিয়ে পরবর্তী সময়ে সেই রোগের প্রভাব স্বামী, স্ত্রী ও পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। তাই বিয়ে করার আগে এই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এই বিষয়টি যদি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে নিরোগ ও স্বাস্থ্যবান।
 

প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করার ফলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের স্বাস্থ্যেই এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যা পরবর্তীতে সন্তানের ওপরও পড়ে। তাই বিয়ে করার পূর্বে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই বয়স ভালো করে যাচাই করে নেওয়া দরকার। মেয়েদের ক্ষেত্রে নিয়মিত মাসিক হওয়া, হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য সব ধরনের টিকা দেওয়া আছে কিনা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে বিড়ি-সিগারেট, মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস আছে কিনা তা আগে থেকেই জেনে নেয়া দরকার। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তা পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও এর কুফল পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। এছাড়া শারীরিক উচ্চতা, রক্তচাপ, ওজন এসব দিকও সম গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার।  
 
বয়স:
বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। বেশি বয়সে বিয়ে করার ফলে ছেলেদের ইনফার্টিলিটি অথবা বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান মানসিক ও শারীরিক ত্রুটিসহ প্রতিবন্ধীও হওয়ার ঝুকি রয়েছে। ত্রিশ বছরের পর মেয়েদের প্রথম সন্তান নেওয়া খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই এসব দিক বিবেচনা করে বিয়ের আগে বয়সের দিকটা ভালো করে বিবেচনা করতে হবে। কেননা এর সাথে আগামী প্রজন্মের ভাগ্যও জড়িত।
 
বয়সের দিক ভাবতে গিয়ে অতি অল্পবয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। কম বয়সে মেয়েদের গর্ভধারণ মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। অল্প বয়সে সন্তান ধারণের ফলে আমাদের দেশে অনেক মেয়ের অকালমৃত্যু ঘটছে।
 
এছাড়া ছেলে-মেয়ের বয়সের পার্থক্যের দিকটিও সমানভাবে নজড় দিতে হবে। ছেলে ও মেয়ের বয়সের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে পরবর্তীতে সংসার জীবনে একে অপরের বোঝাপড়াটা ঠিকমতো হয় না। যার ফলে সংসারের নানা ধরনের অশান্তি লেগেই থাকে। তাই সবদিক বিবেচনা করে বিয়ের আগে এই বিষয়টি অধিক গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
 
বন্ধ্যাত্ব:
আমাদের দেশে অসংখ্য নারী ও পুরুষ বন্ধ্যাত্ব নামক এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হন। এনিয়ে সমাজে নানা ধরনের কুসংস্কারও রয়েছে। আদতে যৌন অক্ষমতা, অ্যাজোসপারমিয়া এবং সন্তান ধারণে অক্ষমতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বন্ধ্যাত্ব পুরুষ ও নারী উভয়েরই হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা পরবর্তীতে সংসার জীবনে নানা ধরনের অশান্তির সৃষ্টি করে। আমাদের বর্তমান সমাজ জীবনে বিয়ের আগে এই ধরনের কোনো পরীক্ষা করার ব্যবস্থা না থাকলে আপাতদৃষ্টিতে অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।  
 
রক্তরোগ:
একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে রোগ জীবাণু ছড়ানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে রক্ত। এটির মাধ্যমে সহজেই রোগজীবাণু একাধিক দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বিয়ের আগে নারী ও পুরুষ উভয়ের রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। সাধারণত যাদের রক্তে আরএইচ (RH) ফ্যাক্টর নেই তারা নেগেটিভ গ্রুপের রক্তধারী। যেমন- এ নেগেটিভ, এবি নেগেটিভ। পজিটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের সাথে যদি এই নেগেটিভ রক্তধারী কোনো পুরুষের বিয়ে হয় তাহলে সন্তান জন্মদানের সময় দুর্ঘটনার আশংকা সৃষ্টি হয়। যেমন- অকাল গর্ভপাত হওয়া, শিশুর মৃত্যু হওয়া, জন্মগ্রহণকারী শিশুর হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে। এসব অনাহুত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য রক্তের গ্রুপ নির্ণয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  
 
প্রজন্মগত রোগ:
রোগের জীবাণু বহনকারী পুরুষ ও মহিলার ঔরসজাত সন্তানও জন্মের সময় মায়ের গর্ভ থেকেই সেই রোগের জীবাণু নিজের শরীরে বহন করে নিয়ে আসে। যা পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার মাঝে প্রকাশ পেতে থাকে। সাধারণত মা-বাবা দুজনের অথবা যে কোনো একজনের জীন থেকে সন্তান এই রোগের ধারক হন। বংশগত রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে – মৃগী, ডিপ্রেশন, কার্ডিওভাসকুলার ডিজেস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার যেমন – ফুসফুসের ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ডাযাবেটিস, আর্থাইট্রিস, গ্লুকোমা, ওবেসিটি, অস্টিওপোরেসিস, অ্যাজমা, মানসিক অসুস্থতা,  প্রভৃতি।
 
সবক্ষেত্রে বংশগত রোগ শারীরিকভাবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে প্রকাশ হয় না সেসব রোগের জন্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই গোত্রের ছেলে-মেয়ের মধ্যে বিয়ে হলে বিয়ের আগে শারীরিক পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত রোগ দ্বারা সন্তানদের আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। যেমন – হিমোফেলিয়ার বা রক্ত জমাট বাধার সমস্যা, কালার ব্লাইন্ডনেস প্রভৃতি রোগ সাধারণত মায়েদের থেকে ছেলে সন্তানদের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এসব রোগ দ্বারা কন্যা সন্তানদের প্রভাবিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ধরনের রোগ মহিলাদের মধ্যে পরিবাহিত হলেও তাদের নিজ দেহে তা প্রকাশ পায় না। পরবর্তীতে তা তার ছেলে সন্তানের দেহে প্রকাশ পায়। তাই বিয়ের পূর্বে রক্ত ও টিস্যু নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়াই ভালো।
 
যৌন রোগ:  
নারী বা পুরুষের পূর্বে কোনো যৌন রোগ থাকলে বিয়ের পর তাদের শারীরিক সম্পর্কের ফলে ঐই রোগের জীবাণু একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে মিশে যায়। সিফিলিস, গনোরিয়া, স্যানক্রয়েড, জেনিটাল হারপিস সহ মরনঘাতী এইডসও এই পক্রিয়ায় একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। পরবর্তীতে এসব রোগের প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়ে। তাই বিয়ের পূর্বে এসকল বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
 
সবশেষে পরীক্ষায় যাই ধরা পড়ুক সেটির উপর ভর করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না। ডাক্তারের পরামর্শ মতো কীভাবে সেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করাই যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত। তাছাড়া আমাদের বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থায় কতজন এই পদ্ধতি মেনে চলবেন তাও প্রশ্নাতীত। অনেকে উপরের কথাগুলো শুনে গালমন্দও করতে পারে। তবে উপরের কথাগুলো খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এর উপকারিতা ছাড়া কোনো অপকারিতা বোধহয় খুজে পাওয়া যাবে না।

মহিলাদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া

মহিলাদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া


প্রস্রাবে প্রদাহ যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির পর থেকে বৃদ্ধ বয়সের যেকোনো সময়। মূল উৎস হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা, পায়ুনালী, ঘন ঘন কৃমি কর্তৃক সংক্রমণ, সহবাসের কারণে মূত্রনালীতে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। পায়ুনালী থেকেই, কোলাই নামক জীবাণু কর্তৃক শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহ হয়ে থাকে। অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে প্রোটিয়াস, ক্লেবসিনা ও সিওডোমনাসের নাম উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি স্টেফাইলোক্কাস স্কোরোফাইটিকাস নামক জীবাণু মেয়েদের ১৫ থেকে ৩০ ভাগ প্রস্রাবের কারণ।

জীবণু প্রস্রাবের পথে প্রবেশের পর মূত্রনালী দিয়ে ক্রমেই কিডনি পর্যন্ত যেতে পারে। প্রস্রাবের প্রদাহের প্রথম শর্ত হচ্ছে জীবাণু প্রস্রাবের রাস্তায় জমা হতে হবে। তবে যেকোনো কারণে প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণু জমতে পারে। জীবাণু সেখানে থেকে মূত্রথলিতে প্রবেশ করার পর প্রস্রাবের প্রদাহ হবে কি না তা নির্ভর করছে অনকে কারণের ওপর। এর মধ্যে মূত্রথলির প্রতিরোধ শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূত্রথলির ভেতরের দেয়ালে ইমিউনো গ্লোবিউলিন নামক একটি স্তর রয়েছে, যে জন্য জীবাণু মূত্রথলির কোষের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না।

প্রস্রাব এমনিতেই অ্যাসিডিক, এ অ্যাসিডের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকলে জীবাণু বাড়তে পারে না। শুধু তা-ই নয়, পরিমিত পানি খেলে প্রতিবার প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রথলির ভেতর থেকে জীবাণু বের হয়ে যায়।
মূত্রথলির প্রদাহের উপসর্গ হচ্ছে, বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রস্রাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হওয়া, মাঝে মধ্যে তলপেটে ব্যথা হওয়া, কখনো কখনো পরিমাণে কমে গিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব হওয়া। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে প্রস্রাবের রঙ ধোয়াটে ও দুর্গদ্ধযুক্ত হতে পারে। তবে একটি ব্যাপার খুবই লক্ষণীয়, তা হলো প্রস্রাব করে আসার পরপরই আবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা।

এই প্রদাহ ক্রমেই কিডনিকেও আক্রান্ত করতে পারে। এ অবস্থায় নাভীর দু’দিক থেকে পেছন পর্যন্ত ব্যথা ছড়াতে পারে। কেঁপে কেঁপে জ্বর আসতে পারে। প্রস্রাবের রঙ রক্ত বর্ণও হতে পারে। খওয়ায় অরুচি, মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব, সমস্ত শরীর ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। বাসর রাতের পর অথবা তারও দু-এক সপ্তাহ পর নববিবাহিত মেয়েরা মূত্রথলির প্রদাহে আক্রান্ত হতে পারে, একে হানিমুন সিসটাইটস বলে। অবশ্য প্রস্রাবের প্রদাহ ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি হয়। তবে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ মহিলা বিশেষ করে যৌন সক্রিয় বয়সে এ রোগে আক্রান্ত হয়। এর কারণ হচ্ছে মহিলাদের মলত্যাগের রাস্তা ও প্রস্রাবের রাস্তার মধ্যে দূরত্ব অনেক কম। কাজেই জীবাণু পায়ুনালীর রাস্তা থেকে প্রস্রাবের পথে সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
রোগের বিস্তারিত ইতিহাস, লক্ষণ, উপসর্গ ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহায্যে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, কালচার করে জীবাণু নির্ণয় করা হয়। এ কালচার করার দু’টি দিক আছে, একটি জীবাণু বিঘ্নিতকরণ ও অপরটি এই বিঘ্নিত জীবাণুটির বিরুদ্ধে সঠিক ওষুধ বাছাই করা। এমন অনকে মহিলা আছে, যাদের প্রায়ই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার উপসর্গ থাকে এবং তাদের প্রস্রাব পরীক্ষা করলে শুধু শ্বেতকণিকা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রস্রাব কালচার করলে কোনো জীবাণু পাওয়া যায় না, আর যদি জীবাণু পাওয়াও যায় তার পরিমাণ খুবই কম থাকে। মহিলাদের এ অসুবিধাকে ইউরেথ্রাল সিনড্রোম বলা হয়। বর্তমানে এ ইউরেথ্রাল সিনড্রোম সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা গেছে এর শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে সত্যিকারের কোনো প্রদাহ থাকে না।

Photo: মহিলাদের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া

প্রস্রাবে প্রদাহ যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির পর থেকে বৃদ্ধ বয়সের যেকোনো সময়। মূল উৎস হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা, পায়ুনালী, ঘন ঘন কৃমি কর্তৃক সংক্রমণ, সহবাসের কারণে মূত্রনালীতে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। পায়ুনালী থেকেই, কোলাই নামক জীবাণু কর্তৃক শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহ হয়ে থাকে। অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে প্রোটিয়াস, ক্লেবসিনা ও সিওডোমনাসের নাম উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি স্টেফাইলোক্কাস স্কোরোফাইটিকাস নামক জীবাণু মেয়েদের ১৫ থেকে ৩০ ভাগ প্রস্রাবের কারণ।

জীবণু প্রস্রাবের পথে প্রবেশের পর মূত্রনালী দিয়ে ক্রমেই কিডনি পর্যন্ত যেতে পারে। প্রস্রাবের প্রদাহের প্রথম শর্ত হচ্ছে জীবাণু প্রস্রাবের রাস্তায় জমা হতে হবে। তবে যেকোনো কারণে প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণু জমতে পারে। জীবাণু সেখানে থেকে মূত্রথলিতে প্রবেশ করার পর প্রস্রাবের প্রদাহ হবে কি না তা নির্ভর করছে অনকে কারণের ওপর। এর মধ্যে মূত্রথলির প্রতিরোধ শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূত্রথলির ভেতরের দেয়ালে ইমিউনো গ্লোবিউলিন নামক একটি স্তর রয়েছে, যে জন্য জীবাণু মূত্রথলির কোষের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না।

প্রস্রাব এমনিতেই অ্যাসিডিক, এ অ্যাসিডের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকলে জীবাণু বাড়তে পারে না। শুধু তা-ই নয়, পরিমিত পানি খেলে প্রতিবার প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রথলির ভেতর থেকে জীবাণু বের হয়ে যায়।
মূত্রথলির প্রদাহের উপসর্গ হচ্ছে, বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রস্রাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হওয়া, মাঝে মধ্যে তলপেটে ব্যথা হওয়া, কখনো কখনো পরিমাণে কমে গিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব হওয়া। এ অবস্থা সৃষ্টি হলে প্রস্রাবের রঙ ধোয়াটে ও দুর্গদ্ধযুক্ত হতে পারে। তবে একটি ব্যাপার খুবই লক্ষণীয়, তা হলো প্রস্রাব করে আসার পরপরই আবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা।

এই প্রদাহ ক্রমেই কিডনিকেও আক্রান্ত করতে পারে। এ অবস্থায় নাভীর দু’দিক থেকে পেছন পর্যন্ত ব্যথা ছড়াতে পারে। কেঁপে কেঁপে জ্বর আসতে পারে। প্রস্রাবের রঙ রক্ত বর্ণও হতে পারে। খওয়ায় অরুচি, মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব, সমস্ত শরীর ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে। বাসর রাতের পর অথবা তারও দু-এক সপ্তাহ পর নববিবাহিত মেয়েরা মূত্রথলির প্রদাহে আক্রান্ত হতে পারে, একে হানিমুন সিসটাইটস বলে। অবশ্য প্রস্রাবের প্রদাহ ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি হয়। তবে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ মহিলা বিশেষ করে যৌন সক্রিয় বয়সে এ রোগে আক্রান্ত হয়। এর কারণ হচ্ছে মহিলাদের মলত্যাগের রাস্তা ও প্রস্রাবের রাস্তার মধ্যে দূরত্ব অনেক কম। কাজেই জীবাণু পায়ুনালীর রাস্তা থেকে প্রস্রাবের পথে সহজেই প্রবেশ করতে পারে।
রোগের বিস্তারিত ইতিহাস, লক্ষণ, উপসর্গ ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহায্যে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, কালচার করে জীবাণু নির্ণয় করা হয়। এ কালচার করার দু’টি দিক আছে, একটি জীবাণু বিঘ্নিতকরণ ও অপরটি এই বিঘ্নিত জীবাণুটির বিরুদ্ধে সঠিক ওষুধ বাছাই করা। এমন অনকে মহিলা আছে, যাদের প্রায়ই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার উপসর্গ থাকে এবং তাদের প্রস্রাব পরীক্ষা করলে শুধু শ্বেতকণিকা পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রস্রাব কালচার করলে কোনো জীবাণু পাওয়া যায় না, আর যদি জীবাণু পাওয়াও যায় তার পরিমাণ খুবই কম থাকে। মহিলাদের এ অসুবিধাকে ইউরেথ্রাল সিনড্রোম বলা হয়। বর্তমানে এ ইউরেথ্রাল সিনড্রোম সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা গেছে এর শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে সত্যিকারের কোনো প্রদাহ থাকে না।

দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৫ অক্টোবর ২০০৯.

বুকের দুধ বাড়াতে করণীয়

বুকের দুধ বাড়াতে করণীয়


বুকে কম দুধ আসা অনেক মায়ের জন্য একটি বড় সমস্যা। কিন' এর সমাধান খুব সহজ। দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য মূলত যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং বিশেষ কিছু খাবার খাওয়া যে খাবারগুলো দুধের পরিমাণ বাড়াতে সরাসরি সহযোগিতা করে।
শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম
বুকে দুধ কম এলে অনেক ক্ষেত্রে মাকে ‘অপয়া’ হিসেবে অপবাদ দেয়া হয়। কিন' বিষয়টি সম্পূর্ণই ভ্রান্ত। এরূপ অপবাদে মা মানসিকভাবে আরও বেশি ভেঙে পড়েন এবং এই মানসিক সমস্যাই মায়ের বুকে দুধ না আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এক্ষেত্রে মা এবং পরিবারের সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর দুধ আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং মায়ের পুষ্টি যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে দুধ আসবে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক অশান্তি মায়ের বুকের দুধ তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ জন্য মায়ের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি সম্ভব হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ মিনিট বিশেষ নিয়মে শবাসন করতে হবে।
শবাসনের নিয়ম
মা বালিশ ছাড়া চিৎ হয়ে আরামের সঙ্গে শুয়ে পড়বেন (বিছানা বা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে)। হাত দুটি শরীরের দুই পাশে থাকবে। দুই পায়ের মাঝে আধা হাত পরিমাণ ফাঁকা থাকবে। হালকাভাবে চোখ বন্ধ রেখে নাক দিয়ে লম্বা করে দম নিয়ে মুখ দিয়ে দম ছাড়তে হবে (পাঁচ-ছয়বার)। এরপর কিছুক্ষণ (দুই-তিনবার) স্বাভাবিকভাবে দম নিতে হবে। এরপর নাক দিয়ে ধীরে ধীরে দম নিয়ে নাক দিয়েই ধীরে ধীরে দম ছাড়তে হবে। দম নেয়ার চেয়ে ছাড়ার সময় একটু বেশি হবে। এরপর মনের চোখে নিঃশ্বাসের প্রবেশপথে মনোযোগ দিতে হবে। এতে শরীর ভারী ভারী অনুভব হবে। এবার চিন্তা করবেন বিশাল ফাঁকা মাঠে নরম ঘাসের ওপর আপনি শুয়ে আছেন। শীতকাল হলে চিন্তা করবেন হালকা গরম বাতাস আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। গরমকাল হলে চিন্তা করবেন হালকা শীতল বাতাস আপনার শরীরে পরশ বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। এবার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ চিন্তা করবেন। পাখির কলতান, ঝরনার ছলছল আর পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ ও রঙ, ফুলের মিষ্টি সুবাস প্রভৃতি। এবার আপনার শিশুকে কল্পনায় প্রচুর পরিমাণে আনন্দের সঙ্গে দুধ পান করাতে থাকবেন। তার সঙ্গে খেলবেন, হাসবেন। ঘুমানোর সুযোগ থাকলে ঘুমিয়ে পড়বেন অথবা ধীরে ধীরে মাথা, হাত-পা নাড়বেন এবং উঠে যাবেন।
পানি পান
প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পানি পানের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ভাতের সঙ্গে কাঁচা লবণ খেতে হবে (অতিরিক্ত পানি খাওয়ার কারণে যাতে শরীরে লবণের ঘাটতি না হয়)। তবে যাদের হাইপ্রেসার বা উচ্চরক্তচাপ আছে তারা কাঁচা বা পাতে লবণ খাবেন না।
ঘন ঘন দুধ খাওয়ানো
বাচ্চাকে যত ঘন ঘন দুধ দেবেন তত বেশি দুধ আসতে থাকবে। বাচ্চা যদি খুব কম দুধ পান করে সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে দুধ চিপে ফেলে দেবেন। প্রথম ছয় মাস প্রতিদিন ৮-১০ বার বা বাচ্চার চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি বার দুধ পান করাতে হবে। একবারে ১০-২০ মিনিট বা তারও বেশি সময় ধরে দুধ দেবেন।
খাবার
মাকে যতটুকু সম্ভব বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার (যেমন- মাছ, ডিম, দুধ প্রভৃতি) খেতে হবে। অতিরিক্ত দুধ তৈরিতে যে খাবারগুলো সরাসরি সহযোগিতা করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজর, শিম, বাদাম (চীনাবাদাম, কাজুবাদাম), কালোজিরার ভর্তা, লাউ, ডুমুর, পালংশাক, কলমিশাক, টমেটো প্রভৃতি।
বিশেষ সতর্কতা
দুধদানকারী মা যদি এইডস, যক্ষ্মা বা অন্য কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তবে দুধদানের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমতি নিতে হবে। দুধদানের সময় মায়ের কখনোই কোক, পেপসি, স্প্রাপ্রাইট প্রভৃতি কোমল পানীয় এবং চা, কফি পান করা ঠিক নয়। কারণ এগুলো থেকে ক্ষতিকর কিছু উপাদান মায়ের শরীরে এবং মায়ের শরীর থেকে দুধের সঙ্গে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এতে বাচ্চা অসুস' হয়ে পড়তে পারে।

ব্রা পরিধান ব্যতিত ব্যয়াম করা কি ক্ষতিকারক

ব্রা পরিধান ব্যতিত ব্যয়াম করা কি ক্ষতিকারক


ব্রা ব্যতিত ব্যয়াম করার ফলশ্রুতিতে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি। অধিকাংশ নারীই ব্যয়ামকালে সঠিক আকারের ব্রা পরতে পছন্দ করেন। যখন নারী স্তন সঠিক আকারের ব্রা দ্বারা নিরাপদ, নারী নিশ্চিন্ত মনে তার শরীর হালকা, মাঝারী কিংবা প্রয়োজনীয় উচ্চ মাত্রায় নাড়াছাড়া করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।


ব্রা ব্যতিরিকে ব্যয়াম করার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া সমুহঃ

প্রকট প্রভাব ব্যয়ামে (দৌড়-ঝাপ-ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি) স্তনের প্রবল উঠানামায় স্তনের চামড়াকে এবং পেশীকলাকে প্রসারীত করে, ব্যয়ামকালে নারী অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শিকার হন। তাছাড়া ব্যয়ামের সময় স্তন পরিধেয় কাপড়ের সাথে ঘর্ষনের ফলে স্তনবোঁটায় ঘা এবং ফোসকা সৃষ্টি হয়ে অস্বস্তিবোধ হতে পারে। স্পোটস্ ব্রা ব্যয়ামের জন্য বিশেষ ভাবে নকশাকৃত, ব্যয়ামকালে কিংবা খেলাধুলার সময় এটি স্তনের অস্বস্তিবোধ, ব্যথা এবং ইনজুরির হাত থেকে রক্ষা করে। সাঁতারে হয়তো ব্রা ব্যতিরিকে চলতে পারে। তবে সাঁতারের জন্য বিশেষ টাইট সুইম-স্যুট ব্যবহার করা হয় যা স্তনকে পানির বিপরীতে আঘাত হতে নিরাপদ রাখে। স্পোটস্ ব্রা ব্যতিত ব্যয়াম করতে স্তনে ঘা অথবা ফোঁসকা পড়া থেকে বাঁচতে স্তন বোটা ওয়ান টাইম ইউজ বেন্ডজ দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলির গাঢ় প্রলেপ দিয়ে রাখুন।


স্পোর্টস ব্রা পরিধানের উপকার সমুহঃ

ইউনিভার্সিটি অব প্রটোসমাউথ, ইউকে এর ব্রেষ্ট বায়োমেকানিকস্ গবেষণায় দেখা গেছে ব্রা সাপোর্ট নারীর লম্বা পা ফেলে দৌড়ানোতে প্রভাব সৃষ্টি করে। জেনি হোয়াইট (পিএইচডি) এবিসি নিউজের এক সাক্ষাতকারে বলেন, "without Bra, there was more force being exerted on...the inside of the foot we found"। ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোটস্ মেডিসিনে প্রকাশিত অন্য এক গবেষনা পত্রে জানা যায় ২০০৮ সালে ৪১% অস্ট্রেলিয়ান নারী পাওয়া গেছে যারা যেকোন প্রকার কায়িক পরিশ্রমের সময়ও স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করেন। ইউনিভার্সিটি অব ওলঙ্গং এর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রিকোমেন্ড করেন - যেকোন প্রকার ব্যয়াম কিংবা শাররীক কসরতের সময় স্তন পেশীকলা ঢিলা হয়ে যাওয়া, স্তনবোঁটা ক্ষত কিংবা ফোঁসকা পড়া প্রতিহত করতে সঠিক ফিটিংস এর ব্রা পরিধান করা অত্যবশ্যক।


কেমন ব্রা কিনবেন?

বাজারে অনেক ডিজানই/স্টাইলের স্পোর্টস ব্রা পাওয়া যায়। সুতি, স্পেনডেক্স, ফেব্রিক ব্ল্যন্ড, ট্যাগ বিহীন, লোহার কিংবা প্লাষ্টিক লক বিহীন ব্রা স্পোর্টস ব্রা এর প্রধান বিবেচ্য গুনাবলী। There are also compression tops that snugly hug the chest and torso, and support tank tops, which combine a bra and tank top into one garment। যখন কোন একটি ব্রা কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ট্রায়ল রুমে তা পরে হালকা দৌড়ে, হাত উপর-নিচ করে, সামনে ঝুকে বিভিন্ন ভাবে ব্রা এর গুনাবলী পরীক্ষা করে দেখতে পারেন (আমাদের দেশে মানুষের মানসিকতা এখনো বন্য পর্যায়ে রয়ে গেছে বলে ট্রায়ল রুম বিষয়টি মাথায় না রেখে পরিচিত দোকান থেকে স্পোর্টস ব্রা কিনে ঘরে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। মনপুত না হলে যেন বদলে আনা যায় তা দোকানীকে বলে নিতে পারেন।)
Photo: ব্রা পরিধান ব্যতিত ব্যয়াম করা কি ক্ষতিকারক

ব্রা ব্যতিত ব্যয়াম করার ফলশ্রুতিতে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি। অধিকাংশ নারীই ব্যয়ামকালে সঠিক আকারের ব্রা পরতে পছন্দ করেন। যখন নারী স্তন সঠিক আকারের ব্রা দ্বারা নিরাপদ, নারী নিশ্চিন্ত মনে তার শরীর হালকা, মাঝারী কিংবা প্রয়োজনীয় উচ্চ মাত্রায় নাড়াছাড়া করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।


ব্রা ব্যতিরিকে ব্যয়াম করার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া সমুহঃ

প্রকট প্রভাব ব্যয়ামে (দৌড়-ঝাপ-ব্যাডমিন্টন ইত্যাদি) স্তনের প্রবল উঠানামায় স্তনের চামড়াকে এবং পেশীকলাকে প্রসারীত করে, ব্যয়ামকালে নারী অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শিকার হন। তাছাড়া ব্যয়ামের সময় স্তন পরিধেয় কাপড়ের সাথে ঘর্ষনের ফলে স্তনবোঁটায় ঘা এবং ফোসকা সৃষ্টি হয়ে অস্বস্তিবোধ হতে পারে। স্পোটস্ ব্রা ব্যয়ামের জন্য বিশেষ ভাবে নকশাকৃত, ব্যয়ামকালে কিংবা খেলাধুলার সময় এটি স্তনের অস্বস্তিবোধ, ব্যথা এবং ইনজুরির হাত থেকে রক্ষা করে। সাঁতারে হয়তো ব্রা ব্যতিরিকে চলতে পারে। তবে সাঁতারের জন্য বিশেষ টাইট সুইম-স্যুট ব্যবহার করা হয় যা স্তনকে পানির বিপরীতে আঘাত হতে নিরাপদ রাখে। স্পোটস্ ব্রা ব্যতিত ব্যয়াম করতে স্তনে ঘা অথবা ফোঁসকা পড়া থেকে বাঁচতে স্তন বোটা ওয়ান টাইম ইউজ বেন্ডজ দিয়ে ঢেকে রাখতে পারেন কিংবা পেট্রোলিয়াম জেলির গাঢ় প্রলেপ দিয়ে রাখুন।


স্পোর্টস ব্রা পরিধানের উপকার সমুহঃ

ইউনিভার্সিটি অব প্রটোসমাউথ, ইউকে এর ব্রেষ্ট বায়োমেকানিকস্ গবেষণায় দেখা গেছে ব্রা সাপোর্ট নারীর লম্বা পা ফেলে দৌড়ানোতে প্রভাব সৃষ্টি করে। জেনি হোয়াইট (পিএইচডি) এবিসি নিউজের এক সাক্ষাতকারে বলেন, "without Bra, there was more force being exerted on...the inside of the foot we found"। ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোটস্ মেডিসিনে প্রকাশিত অন্য এক গবেষনা পত্রে জানা যায় ২০০৮ সালে ৪১% অস্ট্রেলিয়ান নারী পাওয়া গেছে যারা যেকোন প্রকার কায়িক পরিশ্রমের সময়ও স্পোর্টস ব্রা ব্যবহার করেন। ইউনিভার্সিটি অব ওলঙ্গং এর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা রিকোমেন্ড করেন - যেকোন প্রকার ব্যয়াম কিংবা শাররীক কসরতের সময় স্তন পেশীকলা ঢিলা হয়ে যাওয়া, স্তনবোঁটা ক্ষত কিংবা ফোঁসকা পড়া প্রতিহত করতে সঠিক ফিটিংস এর ব্রা পরিধান করা অত্যবশ্যক।


কেমন ব্রা কিনবেন?

বাজারে অনেক ডিজানই/স্টাইলের স্পোর্টস ব্রা পাওয়া যায়। সুতি, স্পেনডেক্স, ফেব্রিক ব্ল্যন্ড, ট্যাগ বিহীন, লোহার কিংবা প্লাষ্টিক লক বিহীন ব্রা স্পোর্টস ব্রা এর প্রধান বিবেচ্য গুনাবলী। There are also compression tops that snugly hug the chest and torso, and support tank tops, which combine a bra and tank top into one garment। যখন কোন একটি ব্রা কিনবেন বলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ট্রায়ল রুমে তা পরে হালকা দৌড়ে, হাত উপর-নিচ করে, সামনে ঝুকে বিভিন্ন ভাবে ব্রা এর গুনাবলী পরীক্ষা করে দেখতে পারেন (আমাদের দেশে মানুষের মানসিকতা এখনো বন্য পর্যায়ে রয়ে গেছে বলে ট্রায়ল রুম বিষয়টি মাথায় না রেখে পরিচিত দোকান থেকে স্পোর্টস ব্রা কিনে ঘরে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। মনপুত না হলে যেন বদলে আনা যায় তা দোকানীকে বলে নিতে পারেন।)