সৌন্দর্য চর্চায় বিপাকও আছে----
সৌন্দর্য চর্চায় বিপাকও আছে!
আজকের দিনে রূপচর্চাটা জীবনেরই অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দর হয়ে উঠবার দৌঁড়ে পিছিয়ে থাকতে চাচ্ছেন না কেউই। এজন্য প্রতিদিনই পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুব গুছিয়ে রাখতে ব্যস্ত সবাই । প্রয়োজনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিউটি পার্লারে সময় কাটাতেও দ্বিধা নেই। বিষয়টিকে মাথায় রেখে অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বিউটি পার্লার। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন নিজেকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে ক্ষতিকর কিছু করে ফেলছেন না তো!
আপনার সৌন্দর্য চর্চা অব্যহত থাকুক তবে একইসাথে কিছু বিষয় মেনে চলুন। বিউটি পার্লারে কি কি বিষয়ে নজর রাখবেন তা জানাচ্ছে অর্থসূচক-
♣ বিউটি পার্লারে যে প্রোডাক্টসমূহ ব্যবহৃত হয় সেগুলি ঠিক কিনা। সেখানে সঠিক উপায়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা হয় কিনা তা খেয়াল করুন।
♣ শরীরের অতিরিক্ত লোম থেকে মুক্তি ও সুন্দর ত্বকের জন্য ওয়াক্সিং সঠিক কিন্তুএর প্রতি আপনার অবহেলা ত্বক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। কারণ ওয়াক্সিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ওয়াক্সের মানের দিকে সাধারণত আপনার নজর থাকে না। ওয়াক্সিংয়ের সময় কাপড়ের স্ট্রিপ্স একেবারেই নয়ব্যবহার করা উচিৎ ডিসপোজাল স্ট্রিপ্স। অনেক সময় একসঙ্গে অনেক কাস্টমারের ওয়াক্সিং করা হয় এবং একই ওয়াক্স স্ট্রিপ্সের ব্যবহার করা হয়, এটি সরাসরি সংক্রমণের কারণ। তাই ওয়াক্সিংয়ের সময় খেয়াল রাখবেন যাতে নতুন ওয়াক্স ও স্ট্রিপ্স ব্যবহার করা হয়। ওয়াক্স করা সময় যে টুল ব্যবহার করা হয় তাও যেন স্টেরিলাইজড হয়। অন্য কারও ত্বকে ব্যবহৃত ওয়াক্স বা টুল ব্যবহারের ফলে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
♣ টিনএজদের ফেসিয়াল করা উচিত না। এতে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পরে। ত্বক কালচে হতে পারে। ব্রণ ও র্যাশ দেখা দিতে পারে। ত্বক হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ। ফেসিয়ালে সাধারণত মার্কস,প্যাক ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বাবহৃত হয়। যেগুলো টিনএজ ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
♣ চুলে কালার করার ফ্যাশন এখন তুঙ্গে। মেয়েরা হেয়ার স্ট্রিপ্স কালারিং বা হেয়ার ব্লিচ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন। কিন্তু কালারিং বা ব্লিচ গোটা চুলেই হোক বা সামান্য কিছু অংশে ক্ষতি পরিমাণ একই থাকে। হেয়ার ডাই,কালার বা ব্লিচে বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল থাকে। যেমন-পিপিডি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, অ্যামোনিয়া, সালফেট, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সবই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে শ্বাসকষ্ট ও ত্বকের সমস্যা হতে পারে।
♣ বারবার বা কম সময়ের ব্যবধানে চুলে ট্রিটমেন্ট করলে চুলের আগা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়।
♣ হেয়ার স্ট্রেটনিং এখন খুবই সাধারণ বিষয়। তাই চুল স্ট্রেট করার জন্য বাজারে প্রচুর স্ট্রেটনিং আয়রন পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধরণের হেয়ার ট্রিটমেন্ট চুলের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। বাড়িতে হোক বা পার্লারে চুল স্ট্রেট করার জন্য কেমিক্যাল, স্ট্রেটনার ও ড্রায়ার ব্যবহার করা হয়। এগুলো সবই চুলের আদ্রতা কমিয়ে চুলকে রুক্ষ করে দেয়। এতে চুল দুর্বল হয়ে খুব সহজেই পড়ে যায়।
♣ হাত-পা সুন্দর রাখার জন্য পেডিকিওর-ম্যানিকিওরে আগ্রহ্টাও বেশ। কিন্তু এই ধরনের ট্রিটমেন্টের জন্য সবচেয়ে বেশি বিউটি টুলসের প্রয়োজন পড়ে। এই টুলস থেকেই হাজারও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। এই সরঞ্জামগুলি সবই আপনার ত্বকের সংস্পর্শে আসে। তাই এগুলোযদি স্টেরেলাইজ না থাকে তবে এগুলো থেকে ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে। পেডিকিওর করার সময় গরম পানি ও সাবান ব্যবহার করা হয়, এতে হাজারও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না নিজেকে সুন্দর দেখাতে গিয়ে শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা ভোগ করতে। তাই সৌন্দর্যের সঙ্গে স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন। যেকোন বিউটি ট্রিটমেন্টের আগে সেগুলির পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন সঙ্গে খেয়াল রাখুন পরিচ্ছন্নতার দিকটিও।














