অনিদ্রা দূর করার পাচটি উপায়
অনিদ্রা দূর করার পাচটি উপায়
একজন মানুষের সুস্থ ভাবে বাঁচার জন্যে নির্দিষ্ট সময় ঘুমের দরকার হয়। আর ঠিকঠাক মত ঘুম না হলে শরীর ও মন দুটোই খারাপ থাকে। আজকাল অনিদ্রা বা ইনসমনিয়া ব্যধিটা অনেকের ক্ষেত্রেই প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘুমাতে চাইলেও রাতভর ঘুম না আসাটা যে কি ভীষণ একটা যন্ত্রণার ব্যাপার, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। ইনসমনিয়ার সাধারণ অখন গুলো হচ্ছে-
-অনেকক্ষণ শুয়ে থাকার পরে ঘুম আসা বা দেরিতে ঘুম আসা।
-রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
-রাতে একবার ঘুম ভেঙে গেলে পরে আর ঘুমাতে না পারা।
-রাত অনেক বাকি থাকতে অর্থাৎ সকাল হওয়ার অনেক আগে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
-ঘুম থেকে জাগার পর শরীর-মনে সতেজ সতেজ বা ফ্রেশ অনুভূতি না আসা।
আজ রইলো ইনসমনিয়া দূর করার কয়েকটি উপায়। একটু চেষ্টা করেই দেখুন, হয়তো ঘুম এলেও চলে আসতে পারে আপনার দু চোখে।
১) একটি নির্দিষ্ট সময়ে রোজ ঘুমাতে যাওয়া-
আপনি পছন্দ করুন আর নাই করুন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিদিন সময়মতো ঘুম, সময়মতো খাওয়া শরীর পছন্দ করে। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট সময় পছন্দ করুন। যদিও আপনার মনে না হয় যে আপনি যথেষ্টভাবে ক্লান্ত হননি তবুও নির্দিষ্ট সময়টাতে ঘুমাতে যান। আপনার সে বুঝতে পারবে আপনি আসলেই আন্তরিক চেষ্টা করছেন অভ্যাস তৈরি করার, তখনই শরীর সাড়া দেয়ার চেষ্টা করবে এবং ঘুমের নির্দিষ্ট সময়টাকে মেনে নেবে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া অভ্যাস করলে ইনসমনিয়ার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় অনেক খানি।
২) বিছানায় শোবেন আরামদায়ক ভাবে-
বেছে নিন নিজের শরীরের সাথে মানাসই একটি আরামদায়ক বিছানা। খুব বেশী নরম বা খুব বেশী শক্ত না হওয়াই ভালো। ডান দিকে কাত হয়ে শোবার চেষ্টা করুন। এতে শরীর রিলাক্সড হয়, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিশ্রাম পায়। বাম দিকে কাত হয়ে শুলে স্টমাক, লিভার, ফুসফুস সবগুলো হার্টের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে। কোনো সময়ে উপুড় হয়ে বা পেটে চাপ দিয়ে শোবেন না কারণ ভেতরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর এর দারুণ প্রভাব যেমন-হৃৎপিণ্ড, ফুসফুসে চাপ সৃষ্টি করে এ পদ্ধতি। হার্ট, লাংস তো বটেই এতে শ্বাস-প্রশ্বাসও দ্রুত হয়, ফলে ঘাড়ে ও শরীরের পেছনে ব্যথার সৃষ্টি করে।
৩) ঘরের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ-
প্রচুর আলো-বাতাস সমৃদ্ধ ঘরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। হাল্কা তাজা বাতাস, কক্ষ তাপমাত্রা ২০ ও ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ঘুমের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ হয়েছে সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞান একমত হয়। চেষ্টা করুন ঘরের পরিবেশ ফ্রেশ আর মন ভালো করার মতন রাখতে।
৪) প্রতিদিন একটু ব্যায়াম-
প্রতিদিন একটু করে হাল্কা ব্যায়াম করুন। যারা মানসিক কাজ বেশি করেন তাদের মধ্যে নিদ্রার সমস্যা বেশি। যারা শারীরিক কাজ করেন তাদের মধ্যে নিদ্রা সমস্যা কম। প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাল্কা ব্যায়াম আপনার শরীরে যথেষ্ট অক্সিজেন সরবরাহ করবে। শরীরকে রিলাক্স করতে সাহায্য করবে। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পূর্বে ব্যায়াম করা যেতে পারে। ওই ৩০ মিনিটে শরীরটা আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, ঘুমও ভালো হবে।
৫) ঘুমানোর পূর্বে গোসল-
কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পারেন ঘুমানোর পূর্বে। শরীরকে রিলাক্স করার জন্য অত্যন্ত ভালো পদ্ধতি এটা। সারা দিনের কাজের শেষে কুসুম গরম পানিতে স্নান করে ফেলুন। শরীরের মাংস পেশী শিথিল হবে। বাথ সল্ট বা ইপসোম সল্ট এক চামচ করে পানির সাথে মিশিয়ে গোসল করলে ভালো ফল পাবেন। এগুলো শরীরকে রিলাক্স করতে সাহায্য করবে ও গা থেকে জীবাণুযুক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করবে।


0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home